গ্রাফিক সময়ের আলোযশোর, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ও শুক্রবার গভীর রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত জানিয়েছেন দৈনিক সময়ের আলোর প্রতিনিধিরা।
যশোর : যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে যশোর সদর উপজেলার নতুনহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২ জনকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত ৩ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতি গ্রামের শামীম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন (১৮), যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম জয় (১৮) এবং একই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে ওমর আলী (১৭)।
আহত হয়েছেন যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে রোহান (১৯) এবং যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতি গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে রিফাত (১৭)। তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২ জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে সিয়াম হোসেন, ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাত একই মোটরসাইকেলে মণ্ডলগাতী এলাকা থেকে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের মোটরসাইকেল নতুনহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
অপর মোটরসাইকেলটি বেনাপোল থেকে যশোরের দিকে আসছিল। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে সিয়াম হোসেন একটি মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন। অপর ২ জন বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের আরোহী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় আহত ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাতকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নতুনহাট বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সেখানে ৩ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও ২ জন। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেন থেকে বাস খাদে পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সোয়া ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন।
হাসাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. সোহেল রানা জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহরিয়ার জানান, আহত ১১ জনের মধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন পার হয়ে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়।
এতে নিহত হন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মৃত আজিবর রহমানের ছেলে রোকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৭), একই উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার শ্রী মিলন কুমারের ছেলে শ্রী চঞ্চল বিশ্বাস (২৩) ও শিবনগর এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে সালাউদ্দিন আহমেদ সাকিব (৩২)। তাদের মধ্যে রঞ্জু দর্শনা পরিবহনের সুপারভাইজার, চঞ্চল হেলপার ও সাকিব বাসের যাত্রী ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শ্রীনগর স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১১ জনকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে এ দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত আরও ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
নিহতরা ২ জনই বাসের যাত্রী ছিলেন। তারা হলেন— সৌরভ (৩২) ও আসিফ (২৬)। সৌরভের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। তবে আসিফের ঠিকানা জানা যায়নি।
এ বিষয়ে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, রংপুর থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা দিগন্ত পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়কে উল্টে যায়।
তিনি আরও জানান, পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসিফ ও সৌরভের মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠান হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
গাজীপুর : গাজীপুরের টঙ্গী গাজীপুরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন— তপন চন্দ্র দাস (৫০) ও তার ছেলে লিখন চন্দ্র দাস (২০)। তাদের বাড়ি শেরপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কৈবর্তপাড়া এলাকায়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ডিউটি অফিসার নুরেজা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. মাকছুদুল আলম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য বাবা-ছেলের মরদেহ গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি হোটেলের পাশে মহাসড়কে দুজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তারা গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক লিখনকে মৃত ঘোষণা করেন।
তপনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সময়ের আলো/আতা