প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
ব্যাটারি পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ। ছবি : সময়ের আলোআজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাটাগাঁও নদীর তীরে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদনের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর রাতের আঁধারে কারখানাটি ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর কারখানার মালিক মুখলিছ মিয়া নিজেই এটি ভেঙে সরিয়ে নেন বলে জানিয়েছেন।
কারখানার মালিক মুখলিছ মিয়া জানান, হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেননি তিনি। অধিদপ্তরের নোটিশ পাওয়ার পর কারখানাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন। তবে সেই সময়সীমা আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি নিজেই কারখানাটি ভেঙে নিয়ে এসেছেন।
এর আগে কাটাগাঁও নদীর তীরে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদনের অভিযোগ নিয়ে দৈনিক সময়ের আলো'র অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে একাধিক সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা স্থানে দিন-রাতে কার্যক্রম চলছিল। এতে নির্গত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। পাশাপাশি ব্যাটারি পোড়ানোর অবশিষ্টাংশ ও রাসায়নিক বর্জ্যে মাটি ও পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
সংবাদ প্রকাশের পরও কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এর মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যার পর কারখানাটি ভেঙে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এর আগে, আজমিরীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলটি বানিয়াচং থানার আওতাধীন। বিষয়টি বানিয়াচংয়ের ইউএনওকে জানানো হয়েছে।
বানিয়াচংয়ের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মেহরাব হোসাইন জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে একদিন অভিযান চালানো হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা জানান তিনি।
কারখানাটি সরিয়ে নেওয়া হলেও দীর্ঘদিনের কার্যক্রমে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ব্যবহৃত ব্যাটারির অবশিষ্টাংশ ও রাসায়নিক বর্জ্য কোথায় ফেলা হয়েছে, তা-ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের দাবি, শুধু কারখানা সরিয়ে নেওয়ার মধ্যেই যেন বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থাকে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, পরিবেশদূষণের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সময়ের আলো/আতা