প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৯ পিএম আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ১০:৪৪ পিএম
বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনস-এর ভিতরে গোপনে গার্ড অফ ওনার দেওয়া হয়। ছবি : সময়ের আলো পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় প্রশাসন ‘গোপনে’ গার্ড অব অনার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদরের শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পিরোজপুর-১ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসলে তাকে গার্ড অব অনার এবং পিরোজপুরে কবর দিতে বাধা দেন জামায়াতের নেতারা। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসে গোপনে গার্ড অব ওনার দেওয়া হয়।
মানিক পশারীর পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে মানিক পশারী পলাতক ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় মেয়ে জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এরপর মরদেহ পিরোজপুরে আনা হলে দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাকে গার্ড অফ অনারের আয়োজন করা হয়। এসময় বাধা দেন স্থানীয় জামায়াতের নেতারা।
তিনি একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা। পরে পুলিশ তাকে গোপনে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গোপনে গার্ড অব অনার দিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
মানিক পশারীর মেয়ে জামাই ফারুক হোসেন জানান, সকাল ১০টায় তিনি মারা গেছেন, দুপুর ১২টায় আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইএনও) কাছে আসি। তিনি আমাদের গার্ড অফ অনারের কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমাদের দাঁড় করিয়ে রাখেন।
উনি একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একটি সাধারণ এম্বুলেন্সে, কোনো বরফ চা পাতা ছাড়া ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পরে ‘গোপনে’ কোনোমতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। আমরা কীভাবে মরদেহ দাফন করব, তার কোনো দায়িত্ব নেয়নি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। মরদেহ দাফন নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক জানান, মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তাকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে মানিক পশরীর মরদেহ দাফন দিতে দেওয়া হবে না।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পৌনে দশটায় পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম সময়ের আলোকে জানান, মানিক পশারীর মরদেহ এখনো পুলিশ লাইনসে ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা আছে। তবে জামাতের নেতাকর্মীদের বাঁধায় মরদেহ তার নিজ বাড়িতে পাঠানো যাচ্ছে না। জামাতের নেতাকর্মীরা এখনো পুলিশ লাইনসের সামনে অবস্থান নিয়ে আছেন। তবে আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জামাতের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ফয়সালার চেষ্টা করছি।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউ এনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মানিক পশারীর মরদেহ গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন/আতা