প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৮ এএম আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ১:০৯ এএম
ছবি : সময়ের আলো দিনভর অনিশ্চয়তা ও দাফন নিয়ে জটিলতার পর অবশেষে পিরোজপুরে মানিক পশারীর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন ও জামায়াতের নেতাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দাফন নিয়ে জটিলতার অবসান হয়েছে। তার মরদেহ দাফনের জন্য কবর খোঁড়ার কাজ চলছে।
মানিক পশারীর ছোট বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই মারা গেছেন। প্রথমে আমরা তাকে দাফনের জন্য নিয়ে আসি। কিন্তু দাফন করতে না পারায় আমরা বিপাকে পড়ি। এখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, কবর খুঁড়ছি।’
এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম সময়ের আলোকে জানান, মানিক পশারীর মরদেহ তখনো পুলিশ লাইনসে একটি ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা ছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জামায়াতের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছিল।
রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসন ও জামায়াতের নেতাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মরদেহ দাফনের বিষয়ে সমঝোতা হয়। এরপর পিরোজপুর পুলিশ লাইনস থেকে মানিক পশারীর মরদেহ নিয়ে তার বাড়ি সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় সদর থানা পুলিশের একটি দল। তবে রাত কতটার দিকে দাফন সম্পন্ন হবে, তা তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মারা যান মানিক পশারী। পরে তার মরদেহ পিরোজপুরে আনা হয়। দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার আয়োজন করা হলে স্থানীয় জামায়াতের নেতারা তাতে বাধা দেন। একই সঙ্গে পিরোজপুরে তার মরদেহ দাফনেও আপত্তি জানান তারা।
পরিস্থিতির কারণে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।
মানিক পশারীর পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। এ সময় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন তিনি। গত দুই মাস ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক জানান, মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তাকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে মানিক পশরীর মরদেহ দাফন দিতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক পশারী। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
সময়ের আলো/এসএকে