ছবি : সময়ের আলোপিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুর রহমান সময়ের আলোকে জানান, প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দাফনের পরও কবর পাহারায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পিরোজপুর-১ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মারা যান মানিক পশারী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি সেখানে মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয়ে ছিলেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
মরদেহ পিরোজপুরে আনার পর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার আয়োজন করা হয়। তবে এ সময় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে পিরোজপুরে তার মরদেহ দাফনেও আপত্তি জানান তারা।
পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।
মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সকাল ১০টায় তার শ্বশুর মারা যান। দুপুর ১২টায় তারা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে যান। গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা বলে তাদের বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখা হয়।
ফারুক হোসেন আরও বলেন, মানিক পশারী একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বরফ ছাড়া একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা মরদেহ রাখার পর গোপনে কোনোমতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। মরদেহ দাফনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো দায়িত্ব নেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে মরদেহ দাফন নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।
অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করেন। তাকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না এবং পিরোজপুরের মাটিতে তার মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে পিরোজপুর সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম সময়ের আলোকে জানিয়েছিলেন, মানিক পশারীর মরদেহ তখনো পুলিশ লাইনসে একটি ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা ছিল। জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধার কারণে মরদেহ তাঁর নিজ বাড়িতে পাঠানো যাচ্ছিল না। নেতাকর্মীরা পুলিশ লাইনসের সামনে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি সমাধানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক পশারী। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
সময়ের আলো/এসএকে