হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়নের কাটাগাং নদীর তীরে পুরোনো ব্যাটারি আগুনে পুড়িয়ে সিসা গলানোর অভিযোগ উঠেছে। নদীর তীর ঘেঁষে গ্রামীণ এলাকার কাছে এ কার্যক্রম চলায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত চার দিন ধরে আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং এবং ঢাকার একটি চক্র কাটাগাং নদীর তীরে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা গলানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে। দিনে অ্যাসিডের উৎকট গন্ধ এবং রাতে ব্যাটারি পোড়ানোর কালো ধোঁয়া ও গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরোনো ব্যাটারি আগুনে পোড়াতে দেখা যায়। এ সময় আগুনের ধোঁয়া ও পোড়া ব্যাটারির গন্ধ আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। নদীর তীরে এভাবে ব্যাটারি পোড়ানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো ব্যাটারি স্তূপ করে আগুনে পোড়ানো হচ্ছে। এতে কালো ধোঁয়া ও উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। ব্যাটারি পোড়ানোর পর অবশিষ্ট বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থও নদীর তীরের আশপাশে পড়ে থাকছে। এসব বর্জ্য বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নদীতে গিয়ে মিশলে পানি ও মাটি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদীর তীরে এবং গ্রামের এলাকার কাছাকাছি এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. মারাজ মিয়া চৌধুরী বলেন, বানিয়াচং উপজেলা ও ঢাকার কয়েকজন মিলে এখানে পুরোনো ব্যাটারি নিয়ে আসছে। আমি তাদের এখানে আগুনে ব্যাটারি না পোড়ানোর জন্য নিষেধ করেছি। তবে তারা কারা বা তাদের পরিচয় কী, তা আমি জানি না।
শিবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নলিউর রহমান তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদফতরের পরিদর্শক শ্রী হরিপদ চন্দ্র দাস বলেন, ওই স্থানে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা গলানোর কার্যক্রমের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।
সময়ের আলো/জোই