পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ : সীমান্ত নাকি রাষ্ট্রীয় নীতি?

আইয়ুব খসরু

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, তাদের প্রদেশের জন্য বহিরাগত শত্রুর চেয়ে ‘প্রতিবেশী প্রদেশ’ থেকে আসা

2026-09-09T16:31:15+00:00
2026-09-09T16:40:07+00:00
 
  বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ : সীমান্ত নাকি রাষ্ট্রীয় নীতি?
আইয়ুব খসরু
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম  আপডেট: ০৯.০৯.২০২৬ ৪:৪০ পিএম
বহিরাগত শত্রুর চেয়ে ‘প্রতিবেশী প্রদেশ’ থেকে আসা নিরাপত্তা হুমকি অনেক বেশি। সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, তাদের প্রদেশের জন্য বহিরাগত শত্রুর চেয়ে ‘প্রতিবেশী প্রদেশ’ থেকে আসা নিরাপত্তা হুমকি অনেক বেশি। এই বক্তব্য তৈরি করেছে চরম বিতর্ক। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়ার মতো অঞ্চলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ সেখানকার জনগণ বছরের পর বছর ধরে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় শিকার। পরবর্তীতে পাঞ্জাব সরকারের পক্ষ থেকে সাফাই গেয়ে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলকে নয়, বরং এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে জঙ্গিদের অবাধ চলাচলের বিষয়টি বুঝিয়েছেন।   

তবে মূল প্রশ্নটি সীমান্ত অতিক্রমের চেয়েও অনেক গভীর। প্রশ্ন হলো— পাকিস্তানে এসব চরমপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্ম ও বিকাশ ঘটল কীভাবে?

Advertisement
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পাকিস্তানের এই নিরাপত্তা সংকটের শিকড় তাদের নিজেদের রাষ্ট্রীয় নীতির ভেতরেই প্রোথিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিজেদের কৌশলগত সুবিধার্থে ব্যবহার করেছে। আবার কিছু গোষ্ঠীকে দমন করার নীতি গ্রহণ করেছে। লস্কর-ই-তাইয়েবা বা জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো সংগঠনগুলো হঠাৎ কোনো প্রদেশের সীমানা থেকে গজে ওঠেনি। রাষ্ট্রীয় নীতি ও প্রশ্রয়ের সুযোগ নিয়েই এরা নিজেদের শক্তিশালী করেছে। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে সশস্ত্র চরমপন্থীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই দ্বিচারিতা আজ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কেবল সামরিক শক্তি ও বৈষম্যমূলক নীতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সংকট মেটানো যায় না। ১৯৭১ সালে বাঙালিদের ওপর যে বৈষম্য ও সামরিক বলপ্রয়োগ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত দেশের বিভাজন ডেকে এনেছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে— রাজনৈতিক অধিকার, আস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা না করে কোনো রাষ্ট্রকে কেবল অস্ত্রের মুখে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়।  

তাই পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ সমস্যার জন্য প্রতিবেশী প্রদেশ বা স্থানীয় জনগণকে দায়ী করার সুযোগ নেই। এই সংকট দূর করতে হলে পাকিস্তানকে অতীত নীতি ও ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আত্মসমালোচনা করতেই হবে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   পাকিস্তান  সন্ত্রাসবাদ  সীমান্ত  রাষ্ট্রীয় নীতি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: