যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিটকয়েন চুরির ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন ২২ বছর বয়সী এক তরুণ। মার্কিন ইতিহাসে অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির এ ঘটনায় চুরি করা অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার ফেডারেল আদালতে মালোন লাম নামে ওই তরুণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এ অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তার সাজা ঘোষণার জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করেননি ওয়াশিংটনের জেলা জজ কোলিন কোলার-কোটেলি।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, ২০২৩ সাল থেকে তরুণদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চালানো হতো। ওই চক্রের অন্যতম সংগঠক ছিলেন লাম। এ মামলায় মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করেছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে লাম ও তার সহযোগীরা সামাজিক কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ডিসির ওই বাসিন্দার কাছ থেকে ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বিটকয়েন হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ। লামের দুই সহযোগী গুগল ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান জেমিনির প্রতিনিধি সেজে ওই ব্যক্তিকে প্রতারিত করেন। একপর্যায়ে তারা তার গুগল ড্রাইভে প্রবেশাধিকার ও নিরাপত্তা কোড সংগ্রহ করেন। এরপর লাম ৪ হাজার ১০০টির বেশি বিটকয়েন সরিয়ে নেন বলে প্রসিকিউটররা জানান।
চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সি নগদ অর্থে রূপান্তর করে লাম বিলাসবহুল গাড়ি, প্রাসাদোপম বাড়ি ভাড়া এবং নৈশক্লাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। এক লস অ্যাঞ্জেলেসের নৈশক্লাবেই এক রাতে তিনি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ডলার খরচ করেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রায় এক মাস ধরে চলা এই বিলাসী জীবনযাপনের পর মিয়ামিতে এফবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হন লাম। এ সময় এক সাবেক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, লামের কেনাকাটার তালিকায় ছিল প্রায় ২০ লাখ ডলারের একটি ঘড়ি এবং ৩০টির বেশি বিলাসবহুল গাড়ি। এসব গাড়ির মধ্যে কাস্টমাইজড পোর্শে, ল্যাম্বরগিনি ও ফেরারি ছিল।
আদালতে বিচারক জানতে চান, এসব গাড়ির মধ্যে কোনগুলো তিনি নিজে কিনেছিলেন তা লামের মনে আছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কিছু সময় লাগবে।’
সময়ের আলো/কেএইচ