যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য মিত্রদের সহায়তায় প্রায় ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের চুক্তি করছে ইউক্রেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঋণের মাধ্যমেও এসব ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেনি খমারা।
মঙ্গলবার ইউক্রেন প্রতিরক্ষা যোগাযোগ দলের বৈঠকে তিনি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বেশির ভাগই আগামী কয়েক বছরে ইউক্রেনে পৌঁছাবে। তবে রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় আরও দ্রুত সামরিক সহায়তা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বক্তব্যে খমারা বলেন, পশ্চিমা মিত্রদের নিজেদের মজুত থেকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কিয়েভ। এর বিনিময়ে ইউক্রেনের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ড্রোন সরবরাহে অর্থের ঘাটতির কারণে ইউক্রেন বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে। এ খাতে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের অর্থসংকট রয়েছে।
বৈঠকে খমারা ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি তালিকাও উপস্থাপন করা হয়।
খমারার দাবি, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া কোনো কৌশলগত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থতার ঘাটতি পূরণে মস্কো ইউক্রেনীয়দের ওপর ‘সন্ত্রাস’ চালাচ্ছে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার কিয়েভে আবারও ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচকদের সফরের কারণে কিছু সময় হামলা বন্ধ থাকার পর তা আবার শুরু হয়। রাজধানী কিয়েভে পাঁচজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বৈঠকে বলেন, ইউক্রেনের মিত্রদের এখন সহায়তা আরও বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আকাশপথে রুশ হামলা মোকাবিলা এবং যুদ্ধের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউক্রেনের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগাতে এ সহায়তা জরুরি।
সময়ের আলো/কেএইচ