ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনায় নির্মাণকাজ বেড়েছে, হামলার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক

ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে পাহাড়ের গভীরে থাকা সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় চলতি বছর নির্মাণকাজ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছয় বছরের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ

2026-09-10T10:36:55+00:00
2026-09-10T10:36:55+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনায় নির্মাণকাজ বেড়েছে, হামলার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে পাহাড়ের গভীরে থাকা সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় চলতি বছর নির্মাণকাজ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছয় বছরের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)।

‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত ওই স্থাপনাটি তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখতে পাহাড়ের গভীরে স্থাপনাটি তৈরি করা হচ্ছে।

Advertisement
সিএসআইএসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছর সেখানে নির্মাণকাজে ‘স্পষ্টভাবে বড় ধরনের বৃদ্ধি’ দেখা গেছে। স্থাপনাটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য সম্ভাব্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজগুলো ওই স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’

তবে গ্রানাইট পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত হওয়ায় স্থাপনাটি ধ্বংস করা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমার জন্যও কঠিন বলে জানিয়েছে সিএসআইএস। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অস্ত্র দিয়ে স্থাপনাটির কতটা গভীরে পৌঁছানো সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এ অবস্থায় গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে বিভিন্ন তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শুরুর মাত্র চার দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি সংস্থা নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে একটি বিশেষ ভূগর্ভস্থ পরীক্ষাকেন্দ্র মেরামতের জন্য ১২ লাখ ডলারের জরুরি চুক্তি করে।

চুক্তির নথিতে বলা হয়, উদীয়মান হুমকি মোকাবিলায় গোপন সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সেখানে সরাসরি অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, পরীক্ষাটি ইরানের যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং গভীর ভূগর্ভে থাকা স্থাপনায় হামলার উপায় তৈরির অংশ হিসেবে এটি নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। ওই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনা ধ্বংস হলেও মার্কিন এক শীর্ষ জেনারেল সে সময় আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন, ইসফাহানের গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। কারণ, সেটি এত গভীরে ছিল যে প্রচলিত ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা দিয়ে তা ধ্বংস করা কঠিন।

বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন প্রজন্মের বোমা তৈরির কাজ করছে। বর্তমান ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর’-এর উত্তরসূরি হিসেবে এই অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এর একটি নমুনা তৈরির কাজ শুরু করার জন্য চুক্তি দেওয়া হয়।

উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট স্যান্ডসের একটি দূরবর্তী পরীক্ষাকেন্দ্রে গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য খননকাজ শুরু হয়েছিল। মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেখানে কাজ চলতে দেখা যায়।

তবে ওই পরীক্ষাটি সত্যিই অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি না এবং সেখানে ঠিক কী পরীক্ষা করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সিএনএন।

এদিকে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রস্তুত পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। চলতি বছরের মাঝামাঝি ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়ানোর সময় স্থাপনাটি সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকাতেও ছিল। পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বোমাগুলোর কয়েকটি ব্যবহারের কথা ছিল। তবে এসব অস্ত্র পাহাড়ের কতটা গভীরে গিয়ে স্থাপনাটি ধ্বংস করতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের স্থাপনাটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত তিন ধরনের কাজে ব্যবহার হতে পারে—সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অথবা ইউরেনিয়াম ধাতুতে রূপান্তরের মতো পারমাণবিক অস্ত্র-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নিরাপদ স্থান হিসেবে।

উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, সেখানে খননকাজের পাশাপাশি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ আরও শক্তিশালী করা, অভ্যন্তরীণ সড়ক তৈরি, প্রবেশপথের চারপাশে স্থাপনা মজবুত করা এবং খনন করা মাটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, স্থাপনাটিতে অব্যাহত নির্মাণকাজ চলার অর্থ হলো—এটি এখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো কার্যক্রম চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি, যদি সেটিই এর উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো  ইরান  যুক্তরাষ্ট্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: