আমাদের কাছে ছুটির দিন মানে পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকা, মায়ের হাতের পছন্দের রান্না কিংবা গল্প-আড্ডা। কিন্তু কখনো কি এমন হয়- সেই সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করার চেয়ে কোন ছবি পোস্ট করবেন বা কী ক্যাপশন দেবেন, তা নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ছি? সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু শেয়ার করা খারাপ নয়। সমস্যা তখনই, যখন ভার্চ্যুয়াল জীবন বাস্তব জীবনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে ব্যক্তিগত ও সাংসারিক জীবনে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি যেভাবে সংসারে প্রভাব ফেলে
-ধরুন, আপনার স্বামী বা স্ত্রী কষ্ট করে টাকা জমিয়ে আপনাকে একটি উপহার দিলেন। উপহার পেয়ে খুশি হওয়ার বদলে আপনি যদি সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলে পোস্ট করা ও ক্যাপশন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তাহলে হয়ত আপনার প্রিয় মানুষটির বলা একটি বিশেষ গল্প বা অনুভূতিই আর শোনা হবে না। এভাবেই ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে দূরত্ব।
-আপনার কাছে যে বিষয়টি স্বাভাবিক, অন্যের কাছে তা নাও হতে পারে। একটি পোস্ট থেকেই শুরু হতে পারে সমালোচনা, হিংসা বা কানাকানি। বিশেষ করে নেতিবাচক মন্তব্য সহজে মেনে নিতে না পারলে, তা আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট করতে পারে।
-আপনি যখন পরিবার বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সুন্দর সময়ের ছবি শেয়ার করছেন, তখন কেউ হয়ত নিজের জীবনে একাকিত্ব বা শূন্যতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আপনার উদ্দেশ্য ভালো হলেও, সেই পোস্ট তার মনে কষ্ট বা হীনমন্যতা তৈরি করতে পারে। সেখান থেকেও তৈরি হতে পারে দূরত্ব।
-ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিস্টের সবাই আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী নয়। তাই স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া বা পারিবারিক সমস্যা নিয়ে আবেগের বশে পোস্ট করলে, সেটি অন্যের কাছে আলোচনার বিষয়, এমনকি বিনোদনের উপাদানও হয়ে উঠতে পারে।
কীভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
-সংসারে মতের অমিল হবেই। আজকের সমস্যা কাল ঠিকও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনি যার কাছে অভিযোগ করেছেন, তার কাছে আপনার সঙ্গী সম্পর্কে তৈরি হওয়া ধারণা হয়ত আর বদলাবে না। তাই সম্ভব হলে সমস্যা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করুন।
-বেডরুম স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত জায়গা। সেখানে তোলা ঘনিষ্ঠ ছবি বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ না করাই রুচিশীল ও নিরাপদ।
-প্রতিটি পরিবারের চিন্তাভাবনা, নিয়ম-কানুন ও জীবনযাপন আলাদা। কোনো বিষয় ভালো না লাগলে, সেটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা না করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
-ভালোবাসা কতগুলো উপহার দেওয়া হলো, তা দিয়ে মাপা যায় না। প্রতিটি উপহারের ছবি পোস্ট করে নিজেদের ভালোবাসা বা সুখ প্রমাণ করার প্রয়োজনও নেই। মাঝে মাঝে আনন্দের মুহূর্ত শেয়ার করা স্বাভাবিক, তবে তা যেন শো-অফের পর্যায়ে না যায়।
-ভ্রমণ, জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীর মতো বিশেষ মুহূর্ত শেয়ার করা যেতেই পারে। কিন্তু প্রতিদিন কোথায় গেলেন, কী খেলেন, কে কী উপহার দিলেন- এ ধরনের সব ব্যক্তিগত মুহূর্ত নিয়মিত পোস্ট করার অভ্যাস ধীরে ধীরে শো-অফে রূপ নিতে পারে। লাইক-কমেন্টের জন্য নিজের একান্ত সময়কে ভার্চ্যুয়াল করে তোলার প্রয়োজন নেই।
সময়ের আলো/মহু