এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা দলটি প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসেও ২ উইকেটে ৫২ রান তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের দল নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন।
বিশেষ করে সাইম আইয়ুবকে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাসের। তার মতে, দীর্ঘদিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট না খেলা একজন ক্রিকেটারকে সরাসরি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে এনে বিদেশের কন্ডিশনে টেস্ট খেলানো পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামোর প্রতি অবহেলারই প্রমাণ।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে জ্যামাইকা কিংসম্যানের হয়ে সম্প্রতি খেলেছেন সাইম। তিন ম্যাচের একটিতে সেঞ্চুরিও করেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই হঠাৎ পাকিস্তানের টেস্ট দলে ডাক পান। এজবাস্টনে ফিরে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।
স্কাই স্পোর্টসকে নাসের বলেন, পাকিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাইমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ফিল্ডিং করার পর হঠাৎ ব্যাটিংয়ে নেমে পুরোপুরি মনোযোগ ধরে রাখা তার জন্য কঠিন হয়েছে।
তবে নাসেরের মূল আপত্তি সাইমকে দলে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে। তার ভাষায়, সাইমের এখানে থাকারই কথা ছিল না। গত ১১ মাসে তিনি কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেননি। অথচ মাত্র ১০ দিন আগেও সিপিএলে খেলছিলেন। এমন অবস্থায় বিদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে সরাসরি এনে সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্করণে ডিউক বলের বিপক্ষে টেস্ট খেলানো কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নাসেরের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি একধরনের অসম্মান ও অবহেলা।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে থাকা ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডও সাইমকে ওপেনিং করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হওয়ার পর সাইম আর সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে তার দৃষ্টিতে মূল সমস্যাই ছিল সাইমকে ওপেনিংয়ে নামানো।
এজবাস্টন টেস্টের আগে পাকিস্তান দলেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। লর্ডস টেস্টের পর সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের জায়গায় নতুন সাতজনকে দলে নেওয়া হয়েছে, যাদের পাঁচজনেরই টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় ছিলেন। পরিবর্তন এসেছে কোচিং স্টাফেও। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কিন্তু এত পরিবর্তনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এজবাস্টনে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রান করার পর পাকিস্তান গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে দিন শেষে ৫২ রান তুললেও ২৬৮ রানে পিছিয়ে আছে তারা। তিন ম্যাচের সিরিজে এখনো কোনো ইনিংসে ২০০ রান করতে পারেনি পাকিস্তান।
দল নির্বাচনের পাশাপাশি মাঝ সিরিজে একসঙ্গে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও পাকিস্তানের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ মনে করছেন নাসের। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত দলের ভেতরের আস্থা ও ঐক্য নষ্ট করে দেয়।
নাসের বলেন, সিরিজের মাঝপথে খেলোয়াড়দের সতীর্থ ও রুমমেটদের দল থেকে বাদ দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া একজন বোলারকেও পরের ম্যাচে বাদ পড়তে হয়েছে। তার মতে, একসঙ্গে সাতজন খেলোয়াড়কে মাঝ সিরিজে বাড়ি পাঠিয়ে দিলে দলের মৌলিক মূল্যবোধই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এতে খেলোয়াড়দের মধ্যেও নেতিবাচক মানসিকতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন নাসের। তার ব্যাখ্যা, খেলোয়াড়েরা তখন ভাবতে পারেন—দল যখন আমার সতীর্থদেরই গুরুত্ব দিচ্ছে না, তখন আমি কেন দলের জন্য খেলব? তখন প্রত্যেকে নিজের জায়গা বাঁচানোর চিন্তাতেই বেশি মনোযোগী হয়ে পড়তে পারেন।
নাসেরের চোখে, পাকিস্তানের বর্তমান সংকট শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের সমস্যা নয়; বরং দল নির্বাচন, ব্যবস্থাপনা এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে আস্থার ঘাটতিও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
সময়ের আলো/টিকে