কঠিন পরীক্ষায় পেসাররা

মেহেদী হাসান

খেলা

এক সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই আরেক সিরিজের প্রস্তুতি। এ ছাড়া দেশ, ভেন্যু আর ফরম্যাট বদলের সঙ্গে বদলে যাবে কন্ডিশনও। আগামী

2026-09-11T04:12:23+00:00
2026-09-11T04:12:23+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলা
কঠিন পরীক্ষায় পেসাররা
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১২ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
এক সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই আরেক সিরিজের প্রস্তুতি। এ ছাড়া দেশ, ভেন্যু আর ফরম্যাট বদলের সঙ্গে বদলে যাবে কন্ডিশনও। আগামী দুই মাসে প্রায় টানা ক্রিকেট খেলতে হবে বাংলাদেশকে, তাও তিন দেশে। জাপানে এশিয়ান গেমস দিয়ে শুরু হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্ট, সবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর।

ঠাসা এই সূচিতে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগ। খেলোয়াড়দের ফিট রাখা, ওয়ার্কলোড নিয়ন্ত্রণ এবং চোট থেকে ফেরা ক্রিকেটারদের ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরানো টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমস্যাটা আরও বেশি পেস বিভাগেই। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার নাহিদ রানা এখনও গ্রেড-টু সাইড স্ট্রেইন থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন। তানজিম হাসান সাকিব ভুগছেন পিঠের চোটে। হাঁটুর সমস্যায় রবিউল হক। কোমরের নিচের অংশ ও হাড়ের চোটে বাইরে রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণ। ইকবাল হোসেন ইমন ও আবদুল গাফফার সাকলাইনও বর্তমানে মাঠের বাইরে।

সূচির দিকে তাকালেই বোঝা যায়, বিশ্রামের সুযোগ কতটা কম। বাংলাদেশের মূল টি-টোয়েন্টি দলই এশিয়ান গেমসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। ফাইনাল কিংবা ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে উঠলে অন্তত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে থাকতে হবে তাদের। এর মাত্র ছয় দিন পর, ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এরপর আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে শুরু হবে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ, যার ফাইনাল হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করে দেশে ফিরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ। ঢাকায় প্রথম টেস্ট শুরু ২৮ অক্টোবর। অর্থাৎ ২৩ অক্টোবরের ফাইনাল আর ২৮ অক্টোবরের টেস্টের মাঝে থাকতে পারে মাত্র চার দিনের ব্যবধান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষ হবে ৯ নভেম্বর। এর মাত্র ছয় দিন পর, ১৫ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই ৯ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হবে বাংলাদেশকে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজও, যা শেষ হবে ১৩ ডিসেম্বর। এই দীর্ঘ পথচলায় তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামকে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্টের জন্য সতেজ রাখা বড় দায়িত্ব নির্বাচকদের। একই সঙ্গে বিকল্প পেসারদেরও প্রস্তুত রাখতে হবে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি অবশ্য ওয়ার্কলোড কমানোর সুযোগ দিতে পারে। ম্যাচটি যেহেতু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। বাংলাদেশের পরবর্তী চারটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ফলে আফগানিস্তান টেস্টে নিয়মিত পেসারদের বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

হাসান মাহমুদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি কাউন্টি ক্রিকেটও খেলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়েও সম্প্রতি কয়েকজন পেসার নজর কেড়েছেন। বিকল্প হিসেবে আছেন মুশফিক হাসানও। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে থাকলেও একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। নাহিদ রানা পুনর্বাসন শেষ করতে পারলে আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজেই ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী নির্বাচকরা। সেখানে ম্যাচ খেলার সুযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে ব্যাকআপ পেসারদের কয়েকজনও চোটে থাকায় বেঞ্চ শক্তিশালী করার সুযোগ সীমিত। অবশ্য ঠাসা সূচি পাইপ লাইনের ক্রিকেটারদের সুযোগ দিয়ে বেঞ্চ আরও শক্তিশালী করার পথও খুলে দিতে পারে। জাতীয় দলের নির্বাচক নাঈম ইসলাম জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার ভাষ্যে, ‘আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় বর্তমানে চোটে আছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তাদের নিয়ে আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খেলোয়াড়রা ফিট ও খেলার জন্য প্রস্তুত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের মাঠে নামানো হবে।’

পেসারদের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা নিয়ে নাঈম বলেন, ‘পেসারদের ক্ষেত্রে ওয়ার্কলোডই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের ফিজিও ও বোলিং কোচ তাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ওয়ার্কলোড ঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করেই আমরা তাদের খেলানোর চেষ্টা করব, যাতে তারা ফিট থাকে এবং প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায়।’

চ্যালেঞ্জটি সহজ হবে না বলেও স্বীকার করেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার, ‘এটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জ। পরপর এতগুলো ম্যাচ থাকলে যেকোনো দলের জন্যই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। সঠিক ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যতটা সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করব।’ আমিরাতে কোনো পেসার চোটে পড়লে তার প্রভাব পরের সিরিজগুলোতেও পড়তে পারে। কারণ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের মাঝে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধান। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে জোহানেসবার্গ টেস্টের প্রস্তুতির জন্য আলাদা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগও সীমিত।

তবে আপাতত নির্বাচকদের পুরো মনোযোগ এশিয়ান গেমসে। নাঈম জানিয়েছেন, জাপান থেকে দল ফেরার পরই আফগানিস্তান সিরিজ নিয়ে পরিকল্পনা শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমাদের দল এশিয়ান গেমস খেলতে জাপানে যাচ্ছে। আফগানিস্তান সিরিজ নিয়ে এখনও কাজ শুরু করিনি। এই মুহূর্তে আমাদের দল মোটামুটি গোছানো। সিরিজ নিয়ে কাজ শুরু করার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হবে।’

আগামী দুই মাসে বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু ম্যাচ জেতার চ্যালেঞ্জ নয়, খেলোয়াড়দের সুস্থ রেখে পুরো পথ পাড়ি দেওয়ার পরীক্ষাও। বিশেষ করে পেসারদের ওয়ার্কলোড সঠিকভাবে সামলাতে পারলেই ঠাসা এই সূচিতে সাফল্যের ভিত শক্ত করা সম্ভব।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   পেসার  সিরিজ  ভেন্যু  ফরম্যাট  এশিয়ান গেমস 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: