দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছালেও কিছু ব্যাংক তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে দেশের ৬১টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশীয় ৫২টি ব্যাংকের ১৩টির খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশের নিচে। তালিকায় থাকা সব ব্যাংকই বেসরকারি খাতের।
গত জুন শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৪৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।
এদিকে, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা ৩০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১৬ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা বা ৩৬ দশমিক ২১ শতাংশ। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
কম খেলাপি ঋণ রয়েছে যেসব ব্যাংকের
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে কম ব্র্যাক ব্যাংকের। গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২ দশমিক ০৫ শতাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পূবালী ব্যাংক। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে প্রাইম ব্যাংক। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৯৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
সিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ইস্টার্ন ব্যাংকের ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। যমুনা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫৩৩ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
এ ছাড়া এনসিসি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংকের ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।
নতুন প্রজন্মের কয়েকটি ব্যাংকও কম খেলাপি ঋণের তালিকায় রয়েছে। কমিউনিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মাত্র ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। সিটিজেন ব্যাংকের খেলাপি ১৬৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮৩ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং সীমান্ত ব্যাংকের ১৩৪ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
ব্যাংকারদের মতে, নতুন ব্যাংকগুলো সাধারণত শূন্য খেলাপি ঋণ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। ঋণ খেলাপি হতে সময় লাগার কারণে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলক কম থাকা স্বাভাবিক।
সময়ের আলো/কেএইচও