পাবনার চাটমোহর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক আমার সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও তার সহযোগীদের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির ঘটনা এখন টক অব দ্য চাটমোহর। চাঁদাবাজির ঘটনার পর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত সাহা কিংশুকের নেতৃত্বে কথিত সালিশ বৈঠকে চাঁদাবাজির অর্ধেক টাকা ফেরতসহ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছে ক্ষমা চেয়ে আপাতত রক্ষা পেয়েছেন ওই সাংবাদিক।
সালিশের ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার মধ্যরাতে চাটমোহর পৌর সদরের নতুন বাজার খেয়াঘাট এলাকায় জনতা ব্যাংকের নিচে একটি মার্কেটে। চাঁদাবাজির ঘটনাটি ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার দিকে চাটমোহর পৌর সদরের নতুন বাজার এলাকায় সুজন হালদার মধুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অর্জন স্টোরে। সুজন হলদার মধু জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে চাটমোহরের সাংবাদিক শিমুল বিশ্বাসসহ ৫জন একটি সিএনজিযোগে তার দোকানের সামনে আসেন। তারা গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি দোকানে ঢুকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে নানাভাবে হেনস্থাসহ অবৈধ জাল বিক্রি করছি বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ২০ হাজার টাকায় রফা হলে তারা টাকা নিয়ে সিএনজিযোগে চলে যান। বিষয়টি আশপাশের লোকজনসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানানো হয়।
এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কতিপয় লোকজন নিয়ে শনিবার রাতে সালিশের আয়োজন করেন। সালিশে চাঁদার ১০ হাজার টাকা ব্যবসায়ী সুজন হলদার মধুকে ফেরত দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন সাংবাদিক শিমুল বিশ্বাস। বাকি ১০ হাজার টাকা অন্যরা নিয়ে গেছে বলে জানান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সালিশকারকদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি যেহেতু মীমাংসা হয়েছে। এ নিয়ে আর লেখালেখির দরকার কী? নিজেদের সম্মান তো নষ্ট হয়েছেই। তবে চাঁদাবাজ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামীতে সাংবাদিকদের মানুষ আরও ঘৃণা করবে।
এদিকে চাটমোহর প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও চাঁদার টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনায় চাটমোহরে কর্মরত সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসক্লাব থেকে তাকে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার আশ্রয়দাতাদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।
সময়ের আলো/এনএন