পাবনার ফরিদপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. রাসেল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মো. রাসেল হোসেন গত ৫ মার্চ পাবনার ঈশ্বরদী থানা থেকে ফরিদপুর থানায় বদলি হয়ে আসেন। যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২১ জুলাই ডেমরা মাঝাট সুইচগেট সংলগ্ন জায়গা থেকে ভ্যানভর্তি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেন এসআই রাসেল। তারপর বস্তা ভর্তি জালসহ আল মাহমুদ (৪০) ও তার ছেলে ইয়াসিনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে ফরিদপুর খাদ্য গোডাউনের মোড়ে আসেন। সেখানে তাদের নামিয়ে মারধর করেন এবং ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে আল মাহমুদ মোবাইল ফোনে তার চাচাতো ভাই আলামিনকে টাকা নিয়ে আসতে বলেন এবং দেন দরবারের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা দিয়ে জাল নিয়ে বাড়িতে ফেরত যান। এই মর্মে ফরিদপুর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন আল মাহমুদ।
এছাড়া, আল্লাহ আবাদ হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। আলামিন নামক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে কোর্ট থেকে ফরিদপুর থানায় একটি অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগের সঙ্গে শফিকুল ইসলাম সম্পৃক্ত কিনা, সে বিষয়ে থানাকে অবহিত করে। এই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পায় এসআই রাসেল। তারপর তিনি শফিকুল ইসলামকে থানায় ডেকে নিয়ে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তা না হলে, তাকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে কোর্টে ওই অভিযোগের প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে হুমকি দেন। ভয়ভীতির একপর্যায়ে শফিকুল ইসলাম তাকে ২৫ হাজার টাকা দেন। তবে, বাকি টাকাগুলোর জন্যেও চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন এসআই।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় ওই প্রতিবেদনে আমার নাম দিয়ে কোর্টে পাঠিয়েছে। ওই অভিযোগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
আরেক অভিযোগকারী মো. শামীম হোসেন (৩০) বলেন, ‘আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে ঝগড়া করে বাপের বাড়িতে চলে যায়। পরে থানায় অভিযোগ করলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাসেল ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে শাহিন নামক ব্যক্তির সমঝোতায় ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন।’
এরই মধ্যে এস আই রাসেল তার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির আনিত অভিযোগ বুঝতে পেরে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে তার পূর্বের জায়গা ঈশ্বরদীতে বদলি হয়ে যান। অভিযোগকারীদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এসআইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
এ বিষয়ে ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে কয়েকটি ঘটনার অভিযোগ এসেছে। সেসময় আমি ছুটিতে ছিলাম। আমার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন। তখন এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
সময়ের আলো/মহু