কুষ্টিয়ায় মামলার বাদী বয়োবৃদ্ধ নারীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সারাদিন থানায় রেখে বিকেলে নাশকতার মামলায় সন্দেহভাজন আসামি দেখিয়ে আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনার জেরে ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি মামলা করেন নূর জাহান বেগম। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিরোধের জেরে তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পাটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়।
রোববার সকালে ওসির সঙ্গে কথা বলার কথা বলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায়। নূর জাহান বেগমের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পী জানান, সকালে পুলিশ বাড়িতে এসে ওসি সাহেবের কথা বলার নাম করে তার মাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাকে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে তার মাকে এভাবে গ্রেফতার করা হলো, তা তারা বুঝতে পারছেন না।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৫ সেপ্টেম্বর পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক দলের অফিস ভাঙচুর ও ভেতরের লোকজনকে মারধরের অভিযোগে ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করা হয়। স্থানীয় কৃষক দল নেতা হাবিবুর রহমান এই মামলা করেন। সেই মামলায় নূর জাহান বেগমকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে দেখিয়ে রোববার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে কৃষক দলের পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের সভাপতি আবদুর রহমান ও মামলার বাদী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনুর রশিদ ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।
সময়ের আলো/আতা