সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসররা ও একাত্তরের পরাজিত শক্তি এক হয়ে গেছে। দিল্লির অট্টালিকায় থাকা ফ্যাসিস্টের দোসররা নাকি আগামী ডিসেম্বরে ফিরবে, আমাদের দেখে নেবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী কথাগুলো বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যারা দেশে অরাজকতা করে অস্থিতিশীল করতে চায়, সেই পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী অপশক্তিকে দেশের স্বার্থে রুখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে নির্দেশনা নিয়ে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে যারাই ষড়যন্ত্র করবে, তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে এবং সংবিধান মেনে দেশ পরিচালনা করছে। দেশে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি বা নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা দেশের স্বার্থ বিক্রি করব না। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জায়গা কারও নেওয়ার ক্ষমতা নেই।’ ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ প্রতিহত করারও আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে। দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সৌরবিদ্যুতের দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের হাসপাতালগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেখানে বিপুল পরিমাণ গ্যাস রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা করে বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ওই গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সারের সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পতিত আওয়ামী লীগের সময়ের সারের ডিলারদের আমরা বাদ দিইনি। ফ্যাসিবাদের দোসররা দেশে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে কাজ করছে। তা বুঝতে পেরে বর্তমান সরকার আগের ডিলারের পাশাপাশি নতুন করে ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে, যাতে সারের কোনো সংকট তৈরি না হয়। কৃষকরা যাতে সহজেই সার পান।
মতবিনিময় সভা শেষে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা হয়ে জেলা শহরের শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।
সময়ের আলো/আতা