রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, তাকে নগরীর একটি বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে তার পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টারও অভিযোগ তুলেছেন সাবেক ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় পুলিশ ওই তরুণীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শনিবার রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেছেন। ভুক্তভোগী এই শিক্ষার্থীর নাম মির্জা মুজাহিদুল ইসলাম গাজী (২৮) পুঠিয়া উপজেলার কান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী মহানগরীর একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মামলার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নগরীর শেখপাড়া এলাকার তৌকির জাহান স্মরণ (২৯), ভাটাপাড়া এলাকার আবু রায়হান (২৪), একই এলাকার শাহরিয়ার মনন (২৯) এবং বহরমপুর এলাকার জুনাইরা ইসলাম (২২)। তাদের মধ্যে আবু রায়হানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম রাজপাড়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলুপট্টিতে একটি কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় একব্যক্তির সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে থাকা তিন ব্যক্তি তাকে গালাগাল করেন। পরে সেখানে এক তরুণী এসে সমস্যা সমাধানের কথা বলেন। এরপর ওই তরুণী অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তির সঙ্গে মুজাহিদুলকে স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫ তলায় নিয়ে যান।
মুজাহিদুলের অভিযোগ, ফ্ল্যাটে নেওয়ার পর গামছা দিয়ে তার মুখ বেঁধে অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। তরুণীকে দিয়ে ‘কট’ দেখিয়ে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়, নয়তো এক লাখ টাকা দিতে বলা হয়। এরপর ওই তরুণীকে তার পাশে বসিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়।
মুঠোফোন থেকে বড় বোনের নম্বরে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। মুজাহিদুলের বোনের স্বামী গ্রেফতার আসামি শাহরিয়ার মননের একটি ব্যাংকের হিসাবে ৩০ হাজার টাকা পাঠান। এ ছাড়া মুজাহিদুলের কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়।
আসামি আবু রায়হানের বাবা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম অবশ্য তার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বন্ধুরা বিপদে পড়ায় তাকে ডেকে নিয়েছিল এবং তাদের উদ্ধার করতেই সেখানে গিয়েছিল তার ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় জড়িত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের আদালতে চালানও দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা