দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর ভবসুর সাহাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের প্রায় ৪৪ লাখ টাকার হিসাব দিতে পারছেন না। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে দায়িত্ব অর্পণ করে দিনের পর দিন ছুটি কাটাচ্ছেন।
বিদ্যালয়টির অনিয়ম তদন্তে চলতি বছরের ১৬ জুলাই তিন সদস্যবিশিষ্ট এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনয়িম, অনুমোদনহীনভাবে অনুপস্থিত এবং মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত কর্মচারীকে সাজাভোগের সময় বেতন প্রদান ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করানোর বিষয়ে তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ মে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আল মামুন মাদক সেবনের দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তিন দিনের সাজা ভোগ করেন। এর দুই মাস পর ১৬ জুলাই বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, প্রধান শিক্ষক ছুটিতে। তবে তার ছুটির বিষয়ে লিখিত কোনো আবেদন নেই। প্রধান শিক্ষক এভাবেই মনগড়া ছুটি কাটান বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের বিভিন্ন খাতে অনিয়মের তথ্য পাওয়ার পর বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করতে প্রধান শিক্ষকের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব চান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন। ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি অব্যাহতির আবেদন করেন। আয়-ব্যয়ের হিসাবের বিষয়ে তিনি কোনো সাড়া দেননি।
তদন্ত কমিটি জানতে পারে, গত ১৫ বছরে সেশন চার্জ বাবদ প্রায় ৩২ লাখ টাকা এবং টিউশন ফি বাবদ প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় হয়েছে। তবে এসব অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো ভাউচার বা সঠিক তথ্য-উপাত্ত নেই।
তবে প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। কিন্তু ওই মামলার কোনো কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট খরচের হিসাব তার কাছে নেই বলে জানান তিনি।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের ৪৪ লাখ টাকার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। হিসাব মেলানো বা সংশোধনের জন্য মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দিনের পর দিন ছুটি কাটাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, তদন্তের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন