নওগাঁর আত্রাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মুন্নি বিবি (৩৮) গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নওগাঁ পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত এসআই শাহাজুল ইসলাম আত্রাই থানায় কর্মরত (বিপি-৭৯৯৯০৬৫৮৮২)। আর ভুক্তভোগী মুন্নি বিবি উপজেলার নবাবের তাম্বু গ্রামের আলীমুদ্দিন শেখের মেয়ে ও প্রবাসী নুরুল ইসলাম ভুট্টুর স্ত্রী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবাবের তাম্বু গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে এ.এফ.এম মনসুর রহমান ও তার ভাই-বোনেরা পৈতৃক সূত্রে ২৯ শতক জমির মালিক। এর মধ্যে সাড়ে ৯ শতক জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন একই গ্রামের আলীমুদ্দিন শেখের স্ত্রী বাছিরুন বেগম ও তার মেয়ে মুন্নি বিবি। ওই জমিতে থাকা ২৮টি মেহগনি গাছ বিক্রির জন্য গত ২২ মে এক ব্যবসায়ীর কাছে ২৮ হাজার টাকায় দরদাম ঠিক করে ২ হাজার টাকা বায়না নেন মুন্নি বিবি। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা বায়নার টাকা ফেরত নেন। এ নিয়ে গত ৩০ মে বিকেলে মনসুর রহমানের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মুন্নি বিবি ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন গালিগালাজ করেছেন—এমন অভিযোগ এনে মনসুর রহমান বাদী হয়ে ৩০ জুন আদালতে সি.আর ২৬৯/২০২৬ (আত্রাই) নম্বর মামলা করেন।
আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। ১৫ জুলাই থানা মামলাটি গ্রহণ করে এসআই শাহাজুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। তদন্ত শেষে গত ২২ আগস্ট এসআই শাহাজুল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(২)/৫(২)/১৬ ধারায়’ অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
আইনটির এসব ধারায় ভূমি প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। অথচ বাদী এ.এফ.এম মনসুর রহমান তার মূল মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কোথাও ভূমি প্রতারণা বা জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেননি।
ভুক্তভোগী মুন্নি বিবি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমি নিজে মনসুর রহমানকে আসামি করে আদালতে (সি.আর মামলা নম্বর ২২৩/২০২৬) একটি মামলা করেছি। আমাকে হয়রানি করতেই তিনি এই মিথ্যা পাল্টা মামলা করেছেন। আর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাজুল ইসলাম মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বা প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছেন। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আত্রাই থানার এসআই ও তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহাজুল ইসলাম বলেন, আসামিরা প্রতারণা করে একটি দলিল তৈরি করেছেন এবং এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। তারা যে জালিয়াতি করেছেন, এমন মন্তব্য আমি করব না। তবে মামলার সার্বিক দিক বিবেচনা করে আইনি ধারা অনুযায়ীই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই নেবেন।
এ বিষয়ে নওগাঁ জজকোর্টের আইনজীবী কৌশিক কুমার দাস বলেন, বাদী আদালতে যে ধারায় মামলাটি করেছেন, মূল এজাহারে বা মামলার বিবরণে সেই অপরাধের কোনো উপাদান বা তথ্যই উল্লেখ নেই।
সময়ের আলো/জোই