খাদ্য আছে, নিরাপত্তা নেই : ভাতের দেশে ভেজালের রাজনীতি

সাইফুল ইসলাম

মতামত

বাংলাদেশে খাদ্যের অভাব একসময় ছিল আমাদের জাতীয় লজ্জা। সময়ের বিবর্তনে এখন সেই লজ্জার চেহারা বদলেছে। ধান হয়, চাল হয়, মাছ

2026-09-15T12:52:03+00:00
2026-09-15T12:52:03+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
খাদ্য আছে, নিরাপত্তা নেই : ভাতের দেশে ভেজালের রাজনীতি
সাইফুল ইসলাম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম 
প্রতীকী ছবি
বাংলাদেশে খাদ্যের অভাব একসময় ছিল আমাদের জাতীয় লজ্জা। সময়ের বিবর্তনে এখন সেই লজ্জার চেহারা বদলেছে। ধান হয়, চাল হয়, মাছ হয়, সবজি হয়, ফল হয়, মুরগি হয়, ডিম হয়— বাজারে খাদ্যের অভাব চোখে পড়ে না। কিন্তু প্রশ্নটি অন্য জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে: আমরা যে খাদ্য খাচ্ছি, তা কি সত্যিই খাদ্য?

এই প্রশ্নটি শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে। কারণ খাদ্য তো খাদ্যই। ভাত ভাত, মাছ মাছ, দুধ দুধ। কিন্তু বাজারের অর্থনীতি আমাদের শিখিয়েছে, জিনিসের নাম আর জিনিসের চরিত্র এক কথা নয়। দুধের মধ্যে দুধ কমে যেতে পারে, মসলার মধ্যে মসলা কমে যেতে পারে, ফলের সৌন্দর্য বাড়াতে এমন কিছু ঢুকতে পারে যা মানুষের শরীরের জন্য মোটেই সুন্দর নয়। খাদ্যের সঙ্গে তখন ব্যাবসার এমন এক সম্পর্ক তৈরি হয়, যেখানে মানুষের ক্ষুধা একটি বাজার, আর মানুষের অসহায়ত্ব একটি মুনাফা।

খাদ্যনিরাপত্তার কথাও তাই নতুন করে ভাবতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তা শুধু এই নয় যে, মানুষের পেটে ভাত আছে। খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে খাদ্যের প্রাপ্যতা, ক্রয়ক্ষমতা, পুষ্টিমান এবং নিরাপত্তা—সবকিছু জড়িত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্হা FAO-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। অথচ একই সময়ে দেশের ধান উৎপাদন ছিল ভালো।

অর্থাৎ ধান উৎপাদন আর খাদ্যনিরাপত্তা এক জিনিস নয়। গোলায় ধান থাকলেই মানুষের পাতে পুষ্টি আসে না।

আমাদের খাদ্যব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য এখানেই। একদিকে কৃষক উৎপাদন করছেন, অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগী, পরিবহনব্যবস্থা, বাজারের কাঠামো এবং মূল্যস্ফীতি সেই খাদ্যের নাগাল সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। যে মানুষটি বাজারে গিয়ে এক কেজি মাছ কিনতে পারেন না, তাঁর কাছে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি কোনো সান্ত্বনা নয়। আর যে মানুষটি কোনো রকমে মাছ কিনছেন, সেই মাছ যদি রাসায়নিক দূষণে আক্রান্ত হয়, তাহলে তাঁর খাদ্যনিরাপত্তা কোথায়?

খাদ্যের নিরাপত্তা এবং পুষ্টি আসলে একই নদীর দুই তীর। এক তীরে যদি ভাত থাকে কিন্তু পুষ্টি না থাকে, আর অন্য তীরে পুষ্টি থাকে কিন্তু খাদ্য নিরাপদ না হয়, তাহলে মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি নিরাপদ কোথায়?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দূষিত খাদ্য রোগ ও অপুষ্টির একটি দুষ্টচক্র তৈরি করতে পারে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর দূষিত খাদ্য খেয়ে আনুমানিক ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অসুস্থ হয় এবং প্রায় ১৫ লাখ মানুষ মারা যায়।

বাংলাদেশের বাস্তবতা আরও কঠিন। কারণ এখানে খাদ্যে ভেজাল কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি অনেক ক্ষেত্রে বাজারব্যবস্থার একটি বিকৃত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। ফল পাকাতে রাসায়নিক, মাছ সংরক্ষণে অননুমোদিত পদার্থ, মসলায় ভেজাল, তেলে নিম্নমানের উপাদান, দুধে ভেজাল—এসব খবর আমরা এতবার শুনেছি যে অনেক সময় খবরের ভয়টাই আর ভয়াবহ মনে হয় না।

এটাই বিপজ্জনক।
যে সমাজে অন্যায় প্রতিদিন ঘটে, সেখানে অন্যায় একসময় স্বাভাবিক হয়ে যায়।

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে আমরা প্রায়ই অভিযান চালাই। কিছু দোকানে জরিমানা হয়, কয়েকজন ব্যবসায়ী শাস্তি পান, কিছু পণ্য ধ্বংস করা হয়। তারপর সংবাদপত্রে খবর বেরোয়, সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশিত হয় এবং কয়েক দিন পর বাজার আবার আগের মতো চলতে থাকে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—একজন ব্যবসায়ীকে শাস্তি দিয়ে কি একটি ভেজাল খাদ্যব্যবস্থা পরিবর্তন করা যায়?

যে ব্যবস্থায় উৎপাদক থেকে পাইকার, পাইকার থেকে পরিবেশক, পরিবেশক থেকে খুচরা বিক্রেতা—একটি খাদ্য বহু হাত ঘুরে ভোক্তার কাছে আসে, সেখানে শুধু শেষ দোকানদারকে শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। খাদ্যের নিরাপত্তাকে ক্ষেত থেকে পাতে পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে।

বাংলাদেশ অবশ্য একেবারে কিছু করেনি—এ কথাও সত্য নয়। নিরাপদ খাদ্য আইন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, খাদ্য ব্যবসায়ীর বাধ্যবাধকতা, খাদ্য প্রত্যাহার, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা, জীবাণু নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য লেবেলিং—বিভিন্ন বিষয়ে আইন ও প্রবিধান তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালেও খাদ্য লেবেলিং-সংক্রান্ত নতুন প্রবিধানের খসড়া নিয়ে কাজ চলছে।

সমস্যা হচ্ছে আইন তৈরি করা আর আইনকে কার্যকর করা এক জিনিস নয়।

আমাদের রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলোর একটি হলো—আমরা অনেক সময় প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারি, কিন্তু প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় শক্তি, দক্ষতা ও জবাবদিহি দিতে পারি না। খাদ্য পরীক্ষার জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি দরকার, দক্ষ জনবল দরকার, দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা দরকার, মাঠপর্যায়ে নজরদারি দরকার, অপরাধের সঙ্গে মুনাফার সম্পর্ক অনুসন্ধান দরকার। সবচেয়ে বেশি দরকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা।

আর এখানেই আসে ফুড ফরটিফিকেশন বা খাদ্য পুষ্টিসমৃদ্ধ করার প্রসঙ্গ।
ফরটিফিকেশনকে আমরা অনেক সময় খুব প্রযুক্তিগত বিষয় বলে মনে করি। আসলে এটি দরিদ্র মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করার একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কৌশল। যে খাদ্য মানুষ প্রতিদিন খায়, সেই খাদ্যের মধ্যেই প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যোগ করে দেওয়া—এটাই মূল ধারণা।

বাংলাদেশে এর ভিত্তি ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। আয়োডিনযুক্ত লবণ বহুদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভোজ্যতেলে ভিটামিন-এ যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে ফোর্টিফায়েড চালও বিতরণ করা হচ্ছে। UNICEF-এর সাম্প্রতিক একটি আঞ্চলিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্যাকেটজাত ভোজ্যতেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ ভিটামিন-এ এবং প্যাকেটজাত লবণের প্রায় ৯০ শতাংশ আয়োডিনযুক্ত।

এখানে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা আছে। আমাদের দরিদ্র মানুষকে প্রতিদিন আলাদা করে ভিটামিনের ট্যাবলেট খাওয়ানো কঠিন। কিন্তু তারা যদি প্রতিদিন চাল খায়, তেল ব্যবহার করে, আটা খায়, লবণ ব্যবহার করে—তাহলে সেই খাদ্যকে পুষ্টিসমৃদ্ধ করা তুলনামূলকভাবে সহজ। UNICEF-এর বাংলাদেশের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট কৌশলও ফরটিফিকেশনকে দীর্ঘমেয়াদি ও তুলনামূলকভাবে ব্যয়-সাশ্রয়ী খাদ্যভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

কিন্তু এখানেও আমাদের একটি পুরোনো রোগ আছে। আমরা কোনো একটি প্রকল্প শুরু করতে ভালোবাসি, কিন্তু সেটিকে একটি স্থায়ী জাতীয় ব্যবস্থায় পরিণত করতে পারি না।

ফরটিফিকেশন তাই শুধু কারখানায় পুষ্টি মেশানোর বিষয় নয়। এটি একটি জাতীয় খাদ্যদর্শন হওয়া দরকার।

চাল, আটা, তেল, লবণ—কোন খাদ্যে কোন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট কতটা প্রয়োজন, কোন জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে, কীভাবে মান নিয়ন্ত্রণ হবে, কীভাবে বাজারে ভেজাল বা নিম্নমানের ফোর্টিফায়েড পণ্য ঢুকবে না—এসব প্রশ্নের উত্তর একই সঙ্গে দিতে হবে।

কারণ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে সেটি কোনো সমাধান নয়।

আমরা যদি আয়রন মেশাই কিন্তু খাদ্যের মধ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে, তাহলে পুষ্টির হিসাবটি হাস্যকর হয়ে যায়। আমরা যদি ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ তেল তৈরি করি কিন্তু তেলটি মানহীন হয়, তাহলে মানুষকে পুষ্টি দেওয়ার পাশাপাশি আমরা অন্য একটি ঝুঁকি তৈরি করছি।

তাই বাংলাদেশের খাদ্যনীতির মূলমন্ত্র হওয়া উচিত—Enough food, safe food, nutritious food.

খাদ্য চাই। নিরাপদ খাদ্য চাই। পুষ্টিকর খাদ্য চাই।

শুধু পেট ভরানোর রাষ্ট্র আর পুষ্টিমান নিশ্চিত করার রাষ্ট্র এক নয়।

বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খাদ্যসংকটের চিত্রও আমাদের সতর্ক করে। UNICEF-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি তিন শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাদ্যের সংকটে রয়েছে।

এখানে আমাদের উন্নয়নের প্রচলিত ধারণাটিও একটু সংশোধন করা দরকার। আমরা বড় সেতু বানাই, বড় রাস্তা বানাই, বড় ভবন বানাই—এসব উন্নয়নের দৃশ্যমান প্রতীক। কিন্তু একটি শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন নেই, তার মস্তিষ্ক যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না, তার খাবারে বৈচিত্র্য নেই—এই অদৃশ্য ক্ষত কোনো সেতুর উদ্বোধনী ফলকে লেখা থাকে না।

একটি জাতির ভবিষ্যৎ শুধু তার মাথাপিছু আয় দিয়ে মাপা যায় না। তার শিশুদের উচ্চতা, ওজন, রক্তে আয়রন, খাদ্যের বৈচিত্র্য এবং তারা যে খাবার খাচ্ছে তার নিরাপত্তা দিয়েও মাপতে হয়।

খাদ্যে ভেজাল তাই কেবল ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন নয়। এটি একটি জাতীয় উন্নয়নবিরোধী অপরাধ।

একজন মানুষ যখন বিষাক্ত খাদ্য খেয়ে অসুস্থ হন, তখন শুধু তাঁর চিকিৎসার খরচ বাড়ে না; তাঁর কর্মক্ষমতা কমে, পরিবারের আয় কমে, শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়, রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ে। WHO-ও খাদ্যজনিত রোগকে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে চিহ্নিত করেছে।

তাহলে করণীয় কী?

প্রথমত, খাদ্যনিরাপত্তাকে কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না। এটি কৃষি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একটি সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থা হতে হবে।

দ্বিতীয়ত, খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শুধু ঢাকায় নয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও আধুনিক পরীক্ষাগার ও দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তৃতীয়ত, ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযানকে উৎসবের মতো পরিচালনা না করে নিয়মিত নজরদারি ব্যবস্থায় পরিণত করতে হবে। ক্যামেরার সামনে কয়েকটি দোকানে জরিমানা করার চেয়ে খাদ্য সরবরাহের উৎস শনাক্ত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

চতুর্থত, অপরাধের শাস্তি এমন হতে হবে যাতে ভেজাল করে লাভ করা শাস্তি পাওয়ার চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হয়।


পঞ্চমত, ফুড ফরটিফিকেশনকে প্রকল্পের সীমা থেকে বের করে জাতীয় খাদ্যনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। চাল, আটা, তেল, লবণসহ যেসব খাদ্য সাধারণ মানুষ নিয়মিত গ্রহণ করে, সেগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা আরও গভীরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

ষষ্ঠত, ভোক্তাকেও এই ব্যবস্থার অংশ হতে হবে। খাদ্যের লেবেল পড়া, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখা, সন্দেহজনক খাদ্য সম্পর্কে অভিযোগ করা—এসবকে নাগরিক সংস্কৃতির অংশ করতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষও নিরাপদ খাদ্য ব্যবহারে পরিচ্ছন্নতা, কাঁচা ও রান্না খাবার আলাদা রাখা, যথাযথ তাপমাত্রায় রান্না ও সংরক্ষণের মতো মৌলিক নীতির ওপর জোর দেয়।

সবশেষে সবচেয়ে জরুরি কথাটি হলো—খাদ্যকে শুধু পণ্য হিসেবে দেখলে চলবে না। খাদ্য মানুষের অধিকার, খাদ্য মানুষের জীবন, খাদ্য মানুষের ভবিষ্যৎ।

একটি শিশু যখন ভাত খায়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু তাকে ভাত দেওয়া নয়; সেই ভাত যেন নিরাপদ হয়, তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছায় এবং সেই খাদ্যের জন্য তার পরিবার যেন সর্বস্বান্ত না হয়—এটিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আমাদের দেশে একসময় স্লোগান ছিল—‘সবার জন্য খাদ্য’। এখন সময় এসেছে স্লোগানটি একটু বড় করার:

সবার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য,
সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য,
সবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য।

কারণ ক্ষুধার্ত মানুষ রাষ্ট্রের কাছে খাদ্য চায়।
অসুস্থ মানুষ রাষ্ট্রের কাছে চিকিৎসা চায়।
কিন্তু একটি সভ্য রাষ্ট্রের কাজ হলো—মানুষকে এমন খাদ্য দেওয়া, যাতে খাদ্য খেয়ে তাকে রাষ্ট্রের কাছে চিকিৎসা চাইতে না হয়।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্যের অভাবে আটকে থাকবে না—যদি আমরা খাদ্যের অর্থটিই নতুন করে বুঝতে শিখি।

ধানের শীষ শুধু ফলন নয়।
ভাত শুধু পেটভরা নয়।
তেল শুধু রান্নার উপকরণ নয়।
লবণ শুধু স্বাদ নয়।

এসবই মানুষের জীবনের উপাদান।

আর মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করা যায়, কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করা যায় না।


লেখক : কলামিস্ট
মতামত লেখকের নিজস্ব



সময়ের আলো/এমকে
  বিষয়:   খাদ্য আছে  নিরাপত্তা নেই : ভাতের দেশে ভেজালের রাজনীতি 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: