মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধুই সবুজের সমারোহ। যতদূর চোখ যায়, দেখা মেলে সোনালি আভার সবুজ ধানখেত। মৃদু বাতাসে দুলছে আমন ধানের শীষ। দূরে সারি সারি গাছপালা আর মাঝখানে গ্রামীণ জনপদ মিলে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সেজে উঠেছে কমলগঞ্জের গ্রামবাংলা। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
মাঠজুড়ে এমন চিত্র দেখে কৃষকের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি চলতি মৌসুমে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই সবুজের সমারোহ একদিকে যেমন প্রকৃতিপ্রেমীদের চোখ জুড়াচ্ছে, অন্যদিকে তাদের মনে জাগাচ্ছে সোনালি আশার সঞ্চার।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে কমলগঞ্জ উপজেলায় ১৬ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া মাঠে বাতাসে দুলছে সবুজ ধানের পাতা। কৃষকরা বলছেন, রোপণ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আবহাওয়া বেশ অনুকূলে ছিল। ধানের বয়স বাড়ার এই সময়েও যদি আবহাওয়া অনুকূল থাকে, সময়মতো বৃষ্টি হয়, রোগবালাই কম থাকে এবং সার-কীটনাশক সহজে পাওয়া যায়, তবে গতবারের চেয়ে ফলন অনেক ভালো হবে।
পতনউষার ইউনিয়নের কৃষক মরম আলী ও সাজু মিয়া বলেন, আমি ১ একর জমিতে আমন ধান লাগিয়েছি। আল্লাহর রহমতে এবার ফলন খুব ভালো দেখা যাচ্ছে। গতবারের চেয়ে বিঘাপ্রতি ৩ থেকে ৪ মণ ধান বেশি পাওয়ার আশা করছি। বাজারে যদি ভালো দাম পাই, তবে এই ধান বিক্রি করে সংসারের সমস্ত ঋণ শোধ করতে পারব।
আমন ধান কমলগঞ্জের কৃষকদের অন্যতম প্রধান মৌসুমি ফসল। এই ফসলের ওপর বহু কৃষক পরিবারের সারা বছরের আয়-রোজগার ও খাদ্যচাহিদা নির্ভর করে। তাই রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষা করে ঘরে তোলা এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
তবে বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও কৃষকদের একটি অংশ বাজারদর নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন। উৎপাদিত ফসল সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তারা সরকারের কাছে সরাসরি ধান ক্রয় এবং উপজেলা পর্যায়ে একটি হিমাগার (কোমোল স্টোরেজ) স্থাপনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদার বলেন, এ বছর আমনের বাম্পার ফলন আমাদের উপজেলার কৃষিতে নতুন গতি আনবে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
মাঠজুড়ে বেড়ে ওঠা প্রতিটি সবুজ ধানের শীষ যেন কৃষকের ঘরে সমৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্যভাণ্ডারে নতুন আশার বার্তা বয়ে আনছে।
সময়ের আলো/জোই