বরিশাল নগরীর বাঘিয়ার ইছাকাঠী এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান (৫০) নামের এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নুরুজ্জামান বরিশাল আদালতের মোহরি (আইনজীবীর সহকারী) হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনাস্থলে তার স্ত্রীর রহস্যজনক ও সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত নুরুজ্জামান ওই এলাকার একটি তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় গত দুই বছর ধরে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন।
বাড়ির মালিক আহসান হাবিব জানান, সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, গত সোমবার রাত ৯টার দিকে নুরুজ্জামান বাসায় ঢোকার পর আর বাইরে যাননি। তবে রাত পৌনে ১টার দিকে তার স্ত্রী নাছিমা বেগম বাসা থেকে বের হয়ে ২০ মিনিট পর আবার ফিরে আসেন। এর কিছু সময় পর তিনি হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে আবারও বাসা থেকে বের হয়ে যান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বাড়ির মালিক ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ এসে বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। বাড়ির মালিকের ধারণা, পরকীয়া সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায় এবং খাটের ওপর শুয়ে থাকা অবস্থায় নুরুজ্জামানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক অবস্থায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
সময়ের আলো/জোই