নোয়াখালীর হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ফের অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। অসুস্থ ১১ শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পর পর এমন ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে সুমাইয়া আক্তার (১৬), নাদিয়া আক্তার (১৩), আয়েশা আক্তার (১১), সায়েম (১২) ও রিহান (১২)। তারা সবাই তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ৪৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরপর এমন ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে বুধবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে শ্রেণিকক্ষে থাকা এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশে ঘোরাফেরা করা কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
অভিভাবক মাহেরুল ইসলাম বলেন, তৃতীয় দিনের মতো একই ঘটনা ঘটল। এর আগে আরও দুই দিন বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। আজ এ বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে মতবিনিময় সভা চলছিল। কিন্তু সভা শেষ হওয়ার আগেই আবারও শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা ও আড্ডা বেড়ে যায়। এসময় বিদ্যালয়ের আশপাশে মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের ঘটনা ঘটে। তাদের দাবি, বিদ্যালয় এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদার করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আরিফুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়া প্রায় ১১ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখনো চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে কিছু বিষয় আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে। এ বিষয়ে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সময়ের আলো/এনএন