কুমিল্লার মুরাদনগরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন বোন ও ভাতিজাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার অপর দুজন হলেন—আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতি। আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মূল ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা হনুফা বেগম ও ইতিকে ও ট্রেন থেকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে নিহত খালেদা আক্তার ও তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। এই শত্রুতার জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ আবু মিয়া ও তার সহযোগীরা খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।
পরে নিহতের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়া, তার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ দল অভিযানে নামে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা হনুফা বেগম ও ইতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি ট্রেন থেকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আসামিদের দেখানো জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন