বদলগাছীতে সার সিন্ডিকেটের সাথে কৃষি কর্মকর্তার জড়িতের অভিযোগ

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

নওগাঁর বদলগাছীতে আউশ ধানের জন্য মাঠ তৈরি ও বীজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা‌। কৃষি প্রধান এই উপজেলার কৃষকদের

2026-09-16T17:13:44+00:00
2026-09-16T17:15:01+00:00
 
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
বদলগাছীতে সার সিন্ডিকেটের সাথে কৃষি কর্মকর্তার জড়িতের অভিযোগ
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম  আপডেট: ১৬.০৯.২০২৬ ৫:১৫ পিএম
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকার। ছবি : সময়ের আলো
নওগাঁর বদলগাছীতে আউশ ধানের জন্য মাঠ তৈরি ও বীজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা‌। কৃষি প্রধান এই উপজেলার কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। দিশেহারা হয়ে দিনাতিপাত করছেন সার সংকটের কারণে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ থাকলেও সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। সিন্ডিকেটের কবলে তারা জিম্মি। আর এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা খোদ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকার বলে অভিযোগ উঠেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিসিআইসি ডিলার রয়েছে ১০টি এবং বিএডিসি ডিলার রয়েছে ১৯টি। এছাড়াও ৮টি ইউনিয়নের ৭২ ওয়ার্ডে ৭২জন খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছেন। ডিলার এবং খুচরা সার বিক্রেতারা সরকারিভাবে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সার বরাদ্দ পান। সারের বাৎসরিক চাহিদা ইউরিয়া ৬২৯০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৬১৮ মেট্রিক টন, ডিএপি ৪১০০ মেট্রিক টন, এমওপি ২৪৮০ মেট্রিক টন। চাহিদা অনুযায়ী সরকার পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করছে। খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের মূল্য ২৭ টাকা, টিএসপির মূল্য ২৭ টাকা, ডিএপির মূল্য ২১ টাকা এবং এমওপির মূল্য ২০ টাকা। কিন্তু কৃষককে কিনতে হয় ইউরিয়া ৩০ টাকা, টিএসপি ৩৫ টাকা, ডিএপি ৩৬ টাকা এবং এমওপি ২৪ টাকায়।

শুধু সিন্ডিকেটের কারণেই কৃষককে প্রতি কেজি সার ৪ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে। আর এ কাজে জড়িত রয়েছে খোদ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকার বলে অভিযোগ উঠেছে। সজল সরকার বিভিন্ন ডিলারকে কালো বাজারিদের ৫০ বস্তা করে সার দেওয়ার জন্য জোর জোবরদস্তি করেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

১৩ সেপ্টেম্বর বদলগাছী সদরের মেসার্স আলম ট্রেডার্সের ম্যানেজার মনোরঞ্জনকে এক কালোবাজারিকে ৫০ বস্তা সার দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু তিনি দিতে অস্বীকার জানান। এরপর থেকেই কৃষি অফিস থেকে আলম ট্রেডার্সের উপর বিভিন্ন বিষয়ে চাপ আসতে থাকে।


মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ করিম আলম বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকার আমার ম্যানেজারকে ফোন করে বলে, একজন যাবে তাকে ৫০ বস্তা সার দিবেন। কিন্তু আমি দিব না বলে জানিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা সজল সরকার বলেন, আমি তো চাপ প্রয়োগ করিনি। তাকে বলেছি, যদি সুযোগ থাকে, তাহলে যেন ৫০ বস্তা সার দেওয়া হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমি নতুন এসেছি। খুব দ্রুতই সার সমস্যার সমাধান করব। তবে সার সিন্ডিকেটের মূল হোতা সজল সরকারের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

উপজেলা সার ও বীজ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা সার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হবে।

সময়ের আলো/এনএন


  বিষয়:   বদলগাছী  সার সিন্ডিকেট  কৃষি কর্মকর্তা  জড়িত  অভিযোগ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: