সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ড্রাইভার কাজি বিল্লাল হোসেনকে শাস্তিমূলক বদলি করে দিনাজপুরে পদায়ন করা হয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে তাকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাসুদ আনাম স্বাক্ষরিত এক স্মারকে এ আদেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এবং সিলেট টিটিসিকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে তাকে শাস্তিমূলকভাবে দিনাজপুরে বদলি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওই দিন অপরাহ্নে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে।
এর আগে কাজি বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
সামাজিক সংগঠন সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদ গত ৮ জুন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়। সংগঠনের দাবি, প্রায় ২০ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়েছেন। স্মারকলিপিতে তার বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্য, স্থানীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে কটূক্তি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া তার স্ত্রীও একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বরও তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে একটি তদন্ত দল সিলেট টিটিসিতে যায়।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, তদন্তের সময় প্রভাব খাটিয়ে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য নেওয়া হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে অনুকূল প্রতিবেদন দেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
কাজি বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/এসএকে