সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ মহলে ইতিবাচক মনোভাব আনতে বেশ কিছু নতুন বার্তা আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো— দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, অফিসে সঠিক সময়ে উপস্থিতি এবং কোনো কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে না রাখা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার বিকালে বর্তমান সরকারের প্রথম সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসনে দুর্নীতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এর অন্যতম কারণ, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোলায় নির্বাচনি এলাকায় এক বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে মন্তব্য করেন।
তার এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন অনেক কর্মকর্তা। তাদের বক্তব্য, সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত নন; যারা দুর্নীতি করেন, তাদের জন্যই এ মন্তব্য প্রযোজ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচিব স্বীকার করেন, বর্তমান বাস্তবতায় প্রশাসনে দুর্নীতির ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। সচিব সভায় স্পিকারের বক্তব্যের জের ধরে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হয়।
এদিকে গত মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু লক্ষ্মীপুরে বলেছেন, ‘দুর্নীতি কে করে আমি জানি না। তবে দুর্নীতি আমাদের সমাজে হয়। আর দুর্নীতি করলে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা।’
আরও এক সচিব এই প্রতিবেদককে জানান, সচিব সভায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাজ করবে।
এদিকে সরকারি অফিসে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সময়মতো তাদের নিজ নিজ আসনে পাওয়া যায় না। এতে অনেক ক্ষেত্রে ফাইলের গতি মন্থর হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, দেশের বেশিরভাগ সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঠিক সময়ে উপস্থিত হন না। ঢাকার বাইরে অনেক অফিসে এমন চিত্র খুঁজে পেয়েছেন খোদ মন্ত্রী ও এমপিরা। এ কারণে সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিতির বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ভূমি মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত উপস্থিতিসহ অফিসে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ চালু করা হচ্ছে। অ্যাপটি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ জানান, ‘এই অ্যাপ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাফতরিক উপস্থিতি নিশ্চিতই শুধু করবে না, কাজের গতিশীলতাও আনবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়া সহজ হবে।’
তবে আপাতত ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম জেলায় এর কার্যক্রম চললেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ভূমি অফিসে এটি সম্প্রসারণ করা হবে। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও চালু করা হবে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায়ই বিভিন্ন বৈঠকে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি কমানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বলে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মন্ত্রী ও সচিবদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এমনকি বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা