দীর্ঘদিন আবাহনী লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণে থাকা ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত আবাহনী মাঠ সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে। মাঠটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা সই হবে। এদিন ধানমন্ডি ৮ ও ৯ নম্বর সড়কের মাঝে অবস্থিত ধানমন্ডি মাঠও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন দেওয়া হবে। এ জন্য আলাদা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।
জানা গেছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যাওয়ার পর ধামমন্ডি মাঠ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মাঠটি ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ হিসেবেও পরিচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবাহনী লিমিটেডকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়া হলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েক বছর ধরে ইজারার অর্থ পরিশোধ করেনি। এ অবস্থায় মাঠটির নিয়ন্ত্রণ সরকারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আবাহনী লিমিটেড ১৯৯৬ সালে মাঠের ৯.৭৬ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা চেয়ে আবেদন করে। পরে ১৯৯৮ সালে মাঠের সিংহভাগ জমি এবং ২০১০ সালে অবশিষ্ট ০.৮৯ একর জমি একই মেয়াদে ইজারা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ইজারার আওতায় আসে ১০.৬৫ একর জমি।
ইজারার শর্ত অনুযায়ী, মাঠটি ক্রীড়া কর্মকাণ্ড, ক্রীড়া অনুশীলন ও খেলাধুলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের কথা ছিল। একই সঙ্গে মাঠের পাবলিক পার্কের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন, বাণিজ্যিক স্থাপনা বা মার্কেট নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া স্থাপনা নির্মাণে বিধিনিষেধ ছিল।
১৯৭২ সালে আবাহনী ক্রীড়া চক্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাঠটিকে অনুশীলন ও খেলাধুলার কাজে ব্যবহার করে আসছে ক্লাবটি। পরে মাঠটি আবাহনী মাঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। সরকারি নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর মাঠটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠটি সাধারণ মানুষের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হবে।
শুধু আবাহনী মাঠ নয়, রাজধানীর মিরপুর সিটি ক্লাব মাঠ ও কালশী মাঠও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব মাঠও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজধানীতে খেলার মাঠের সংকট কমাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে আধুনিক মাঠ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৪ মার্চ এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যমান খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনায় রাজধানীর ছোট আকারের মাঠ থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ক্রীড়া অবকাঠামো বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা