প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ, ডাকসুর দায়িত্ব শেষ করলেন জুবায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ২০২৫-এর সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে নিজের দায়িত্ব অনানুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন এবি জুবায়ের।বুধবার (১৬

2026-09-17T11:50:35+00:00
2026-09-17T11:50:35+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষা
প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ, ডাকসুর দায়িত্ব শেষ করলেন জুবায়ের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫০ এএম 
এবি জুবায়ের। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ২০২৫-এর সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে নিজের দায়িত্ব অনানুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন এবি জুবায়ের।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে গত এক বছরে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, বাস্তবায়িত কাজ এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি—এমন কয়েকটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

পোস্টে জুবায়ের বলেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় তাঁর কোনো ইশতেহার ছিল না। এর পরিবর্তে আগে থেকেই কিছু পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন। ডাকসুর দায়িত্বে এলে এসব কাজ বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে মনে করেছিলেন তিনি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব’ তাঁর সেই ধারণা বদলে দিয়েছে বলে দাবি করেন জুবায়ের।

তাঁর ভাষ্য, প্রশাসনের অসহযোগিতা ও বিরোধিতার কারণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি ডাকসুর কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। সাবেক উপাচার্যের রেখে যাওয়া অর্থ থেকেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ নেননি বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।

নিজের দায়িত্বকালে বাস্তবায়িত কাজের তালিকায় জুবায়ের রমজান মাসে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কোরআন শিক্ষা কোর্স চালু, ইসলামী ব্যাংকের দুটি এটিএম স্থাপনে সমন্বয়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক ও স্পিডব্রেকার সংস্কার এবং রমনা গেটসংলগ্ন এলাকা থেকে পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করেন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রজ্ঞাপন আদায়ের কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের দুই ধাপে শীতবস্ত্র এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্বল বিতরণ, ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা অপসারণ, মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি রোডম্যাপ তৈরির কথাও তুলে ধরেন জুবায়ের।

তিনি আরও দাবি করেন, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে মাদক, ভবঘুরে ও অবৈধ দোকানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়া ‘ফ্যাসিস্ট সংগঠনের তৎপরতার’ বিরুদ্ধে অবস্থান, শিক্ষার্থীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আইনি ও চিকিৎসাসেবা দিতে সহযোগিতা করার কথাও উল্লেখ করেন।

ডাকসুর অন্যান্য সম্পাদক ও সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়িত কাজের মধ্যে ১৬টি হলে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ছারপোকা দমনের ওষুধ প্রয়োগ, সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে মশার ওষুধ ছিটানো, হেলথ ক্যাম্প আয়োজন এবং নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি আদায়ের উদ্যোগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি শাটল বাস চালু এবং ফজিলাতুন্নেছা হল, কুয়েত মৈত্রী হল ও শহীদুল্লাহ হল এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা উদ্যোগের মধ্যে হলপাড়ায় ওষুধের ফার্মেসি ও সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণের কথা জানান জুবায়ের। তাঁর দাবি, এ প্রকল্পের টেন্ডারসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কাজও শুরু হয়েছিল। তবে জায়গা নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতায় বর্তমানে কাজটি স্থগিত রয়েছে। শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন ডাকসুর এই সম্পাদক। এর মধ্যে রয়েছে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে ২৪ ঘণ্টা সার্ভিলেন্স ব্যবস্থা, ২৪ ঘণ্টা পুলিশ টিমের মাধ্যমে ‘ক্যাম্পাস পুলিশিং সিস্টেম’ চালু, টিসিবি থেকে খাদ্যপণ্য কিনে ক্যান্টিনের খাবারের দাম কমানো ও মান উন্নয়ন, হারানো মোবাইল-ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস উদ্ধারে শাহবাগ থানার সঙ্গে বিশেষ জোন গঠন এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ।


জুবায়েরের ভাষ্য, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা আবেদন না করায় সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগও প্রশাসনের অনীহার কারণে বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের পোস্টে জুবায়ের বলেন, ডাকসুর দায়িত্বের মধ্যে না থাকা অনেক কাজও শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে জুবায়ের বলেন, দায়িত্ব পালনে তিনি কতটা সফল হয়েছেন, তা শিক্ষার্থীরাই মূল্যায়ন করবেন। তবে নিজের পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না বলে মনে করেন তিনি।

পোস্টের শেষে শিক্ষার্থীদের কাছে দোয়া চান এবি জুবায়ের। সেখানে নিজেকে ‘ডাকসু-২০২৫-এর সমাজসেবা সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   প্রশাসন  অভিযোগ  ডাকসু  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: