জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি : বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির সভাপতি

2026-09-17T14:14:26+00:00
2026-09-17T14:14:26+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অর্থনীতি
জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি : বিজিএমইএ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে সংকটের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বাটেক্সপো ২০২৬’, হংকং রোডশো এবং পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে জ্বালানি সংকটের প্রকৃত অভিঘাত বুঝতে আরও অন্তত তিন মাস সময় লাগবে।

তিনি বলেন, পোশাকশিল্পে কোনো সংকটের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। একটি কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তও একদিনে নেওয়া সম্ভব নয়। পাইপলাইনে থাকা অর্ডার শেষ করা, শ্রমিকদের আইনগত ক্ষতিপূরণ এবং ব্যাংকের দায়-দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কারখানা বন্ধের জন্য প্রায় ছয় মাসের পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত দুই মাসে জ্বালানি সংকটের কারণে তাঁদের তথ্য অনুযায়ী কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে এর প্রকৃত প্রভাব আগামী তিন থেকে চার মাস পর বোঝা যাবে। একই সঙ্গে ছয় মাস বা এক বছর আগের কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার কারণে কোনো কারখানা এখন বন্ধ হলে সেটিকে বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।


গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং, ওয়াশিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল বলে জানান মাহমুদ হাসান খান। তবে সম্প্রতি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকর হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে পোশাক কারখানাগুলো সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এরপরও সময়মতো পণ্য পাঠাতে উদ্যোক্তারা চেষ্টা করেছেন।

গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার বড় ধরনের সমাধান সম্ভব বলে মনে করে সংগঠনটি।

এফএসআরইউর পাশাপাশি স্থলভিত্তিক স্টোরেজের দাবি

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য স্থলভিত্তিক গ্যাস স্টোরেজ টার্মিনাল নির্মাণের ওপর জোর দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি।

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে একটি এফএসআরইউ আনার চুক্তি হয়েছে। তবে এর বাইরে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের পরিবর্তে স্থলভিত্তিক স্টোরেজ ব্যবস্থার দিকে যেতে চায় বিজিএমইএ।

তাঁর ভাষ্য, তিন, চার বা পাঁচটি এফএসআরইউ স্থাপন করলেও বিতরণব্যবস্থা ঠিক না থাকলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। তাই এফএসআরইউ স্থাপনের পাশাপাশি গ্যাস বিতরণ লাইন উন্নয়নের কাজও একই সঙ্গে করতে হবে।

এ ছাড়া এসএমই কারখানায় গ্যাস সংযোগ ও রেশনিংয়ে অগ্রাধিকার, ১০০ থেকে ৫০০ পিএসআই বয়লারসম্পন্ন কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে কম সুদের ‘গ্রিন লোন’ এবং উপকূলীয় এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জোর

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে নিজেদের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ২০১৯ সাল থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ১৪ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের কথাও জানান তিনি।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সদস্য কারখানাগুলোতে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন ও সুদের হার এ খাতে বিনিয়োগের বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে কম সুদের গ্রিন ফাইন্যান্সের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ানোর আশা

এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় তিন বছর পেছানোর জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ব্যবসায়ী মহলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন বিজিএমইএ সভাপতি। চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিষয়টি অনুমোদিত হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী বলেও জানান তিনি।

অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়া গেলে এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মিত বৈঠকে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ইইউর সঙ্গে এফটিএকে অগ্রাধিকার

এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মাহমুদ হাসান খান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ করা, জিএসপি প্লাস নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে এবং আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া ব্যবসা সহজ করতে কোম্পানি ও কাস্টমস আইন আধুনিকায়ন, দ্রুত এফটিএ বা ইপিএ চুক্তি এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাতে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা ও শুল্ক-কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ

রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত এক দশক ধরে নতুন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার বাইরের বাজার থেকে আসে।

হংকংয়ে এইচএসবিসির উদ্যোগে আয়োজিত রোডশোতে নতুন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশে ব্যবসায় আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানান তিনি।


এ ছাড়া জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে বিজিএমইএ ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করতে যাচ্ছে। জাপানি ভাষায় যোগাযোগে সক্ষম কর্মকর্তাদের সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের জাপানমুখী পোশাক রপ্তানি ভবিষ্যতে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে শুধু কম দামের পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবননির্ভর ও আধুনিক শিল্প হিসেবে বিশ্ববাজারে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি করার কথাও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   জ্বালানি সংকট  পোশাক কারখানা  বিজিএমইএ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: