যুদ্ধের ডাক এলে কি প্রস্তুত ন্যাটো? ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ন্যাটোর সামনে নতুন এক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে— ভবিষ্যৎ যুদ্ধে লড়াই করার জন্য জোটটি কি যথেষ্ট

2026-09-17T16:49:07+00:00
2026-09-17T16:49:07+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধের ডাক এলে কি প্রস্তুত ন্যাটো? ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম 
‘কাইমেরা’ নামে পরিচিত এক সামরিক মেকানিক ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের একটি ওয়ার্কশপে সহযোদ্ধাদের নতুন যান যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করতে দেখছেন। ছবি : রয়টার্স
রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ন্যাটোর সামনে নতুন এক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে— ভবিষ্যৎ যুদ্ধে লড়াই করার জন্য জোটটি কি যথেষ্ট প্রস্তুত? যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও কৌশলের সঙ্গে ন্যাটোর অস্ত্র ও সামরিক পরিকল্পনা তাল মেলাতে পারছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন কয়েকজন সামরিক বিশ্লেষক।  

রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনে ইউক্রেনে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে এই যুদ্ধ নতুন অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিবর্তন এত দ্রুত ঘটছে যে, ন্যাটোর কিছু অস্ত্র ও কৌশল অচিরেই অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইউক্রেন ও পশ্চিমা প্রতিরক্ষা খাতের পাঁচ কর্মকর্তা। 

তাদের মতে, ইউক্রেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি ও কৌশলের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। বিপরীতে ন্যাটো সাধারণত অস্ত্র কেনা ও নতুন সামরিক ব্যবস্থা তৈরি করতে কয়েক বছর, এমনকি কয়েক দশক সময় নেয়। 

ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্টের সহ-মালিক ও প্রধান ডিজাইনার দেনিস শ্তিলেরমান বলেন, বর্তমানে একটি ড্রোন তৈরিতে প্রায় ৫ হাজার ডলার খরচ হলেও সেটি একটি ট্যাংক ধ্বংস করতে পারে। তার দাবি, এ কারণে ট্যাংকের গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, ভবিষ্যৎ যুদ্ধেও ট্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

কম খরচের ড্রোন যুদ্ধের কৌশলেও বড় পরিবর্তন এনেছে। সেনাদের বড় দলে অবস্থান করা কিংবা সামরিক যানবাহনের দীর্ঘ বহর এখন আগের তুলনায় অনেক সহজে ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার ওলেক্সান্দর পিভনেঙ্কো বলেন, গত বছর তাদের বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেওয়া আন্তর্জাতিক সেনারা অবস্থানে হামলা চালাতে দক্ষ। কিন্তু আকাশে ড্রোন থাকা অবস্থায় কোনো সেনা যদি সেটির দিকে না তাকায়, তাহলে পুরো দলটি বিপদের মুখে পড়তে পারে।

গত জুনে এস্তোনিয়ার পালডিস্কির কাছে ন্যাটোর একটি সামরিক মহড়ায় রয়টার্স অংশ নেয়। রাশিয়ার সঙ্গে ২১০ মাইল সীমান্ত থাকা এস্তোনিয়া বর্তমানে সীমান্ত প্রতিরক্ষা জোরদার করছে। মহড়ায় মার্কিন ও ইউরোপীয় সেনারা যুদ্ধকালীন ফিল্ড হাসপাতালে কয়েক ডজন আহত ব্যক্তির চিকিৎসার অনুশীলন করেন।

তবে ওই মহড়ায় ধরে নেওয়া হয়েছিল, হাসপাতালগুলোর ওপরের আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ ন্যাটোর হাতে থাকবে। সস্তা, গোপনে উড়তে সক্ষম এবং দূরপাল্লার ড্রোনের যুগে এমন নিশ্চয়তা আর আগের মতো নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে ন্যাটোকেও শিক্ষা দিতে ক্রমেই বড় ভূমিকা রাখছে ইউক্রেন। তবে ন্যাটোর সামরিক আমলাতন্ত্র এসব শিক্ষা দ্রুত গ্রহণ করতে পারছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ন্যাটোর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধবিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়া এক ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, রোমানিয়ায় পাওয়া কিছু প্রশিক্ষণসামগ্রীতে এখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি ন্যাটো।

ইউক্রেন যুদ্ধ ন্যাটোর সামনে আরেকটি বড় দুর্বলতা স্পষ্ট করেছে— আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা। ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইউরোপের উন্নত মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতাও প্রকাশ করেছে।


এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মার্কিন প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রথম ব্যবহৃত এই ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র আকাশপথে আসা হুমকি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে।

প্যাট্রিয়টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে কৌশলগত দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে— এমন আশঙ্কায় ইউরোপ নিজস্ব বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফ্রান্স ও ইতালির তৈরি নতুন এসএএমপি/টি-এনজি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনে পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম এই ব্যবস্থার সরবরাহ দ্রুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফ্রান্স।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন ও ন্যাটোর সেনাদের একে অপরের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। মন্ত্রণালয়টি ড্রোন ও রেডিও-ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশলে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতাকে বিশ্বে অনন্য বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবেলায় ইউরোপের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে। 

গত জুলাইয়ে ইউক্রেন ও ইউরোপের নয়টি মিত্রদেশ মিলে একটি আকাশ প্রতিরক্ষা জোট গঠন করে। এর আওতায় নতুন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যৌথভাবে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ‘ফ্রেইজা’ নামের এই প্রকল্পে প্রায় এক ডজন কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। এর প্রধান বেসরকারি অংশীদার ফায়ার পয়েন্ট।

প্রকল্পটির লক্ষ্য প্যাট্রিয়টের তুলনায় কম খরচে এবং দ্রুত উৎপাদন করা যায়— এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা। একই সঙ্গে এর উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ যেন ইউরোপের হাতেই থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় অংশীদাররা। 

ফায়ার পয়েন্টের প্রধান ডিজাইনার শ্তিলেরমান বলেন, একটি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যদি ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়, তাহলে নিজেদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাদের স্বাধীন থাকা প্রয়োজন। 

সূত্র: রয়টার্স 


সময়ের আলো 
  বিষয়:   ইউক্রেন  যুদ্ধ  ন্যাটো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: