৭৩ মুসলিম পরিবারের বাড়ি ভাঙা ‘অবৈধ’ : গুয়াহাটি হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়ায় ৭৩টি বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন

2026-09-17T10:23:43+00:00
2026-09-17T10:23:43+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
৭৩ মুসলিম পরিবারের বাড়ি ভাঙা ‘অবৈধ’ : গুয়াহাটি হাইকোর্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়ায় ৭৩টি বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। 

আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত কৃষিজমিতে নির্মিত বাড়িগুলো ভেঙে ফেলার প্রশাসনিক পদক্ষেপ ‘প্রাথমিকভাবে অবৈধ ও অননুমোদিত বলে প্রতীয়মান’ হচ্ছে। একই সঙ্গে এতে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতিও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর গোয়ালপাড়া জেলা প্রশাসন ৭৩টি পরিবারের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়। এর মাত্র দুদিন আগে, ৫ সেপ্টেম্বর সার্কেল অফিসারের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের নোটিশ দেওয়া হয়। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কৃষিজমিতে নির্মিত বাড়ি সরিয়ে না নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

প্রশাসনের ওই নোটিশে আসাম ভূমি ও রাজস্বসংক্রান্ত ১৮৮৬ সালের বিধান এবং ২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের উল্লেখ করা হয়। তবে নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে ২১ জন বাসিন্দা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা বা নিজেদের বক্তব্য জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ তাঁদের দেওয়া হয়নি।

মামলার শুনানিতে আদালত ২০১৫ সালের আসাম ভূমি পুনঃশ্রেণীকরণ ও হস্তান্তর আইনের কথাও উল্লেখ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কোনো ব্যক্তি নিজের এক বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমি দুই তলা পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণে ব্যবহার করলে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই।


এ ছাড়া আদালত প্রশ্ন তোলেন, এত অল্প সময়ের নোটিশ দিয়ে এবং বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই কীভাবে এত বড় ধরনের উচ্ছেদ বা ধ্বংসের পদক্ষেপ নেওয়া হলো? প্রশাসনের কাছে আদালত আরও জানতে চান, ঠিক কী ধরনের ‘আসন্ন বিপদ’ তৈরি হয়েছিল, যার কারণে বাড়িগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

গত ১১ সেপ্টেম্বরের আদেশে আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, প্রশাসনের পেশ করা নথিপত্রে আপাতদৃষ্টিতে এমন কোনো আসন্ন বিপদের পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন আদালত।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   মুসলিম  পরিবার  ভারত  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: