সৌদি আরবের তেল সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কিছুটা কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দিতে ওমানের উপকূলে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৩ দশমিক ৪০ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়ায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ বদলের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, এই উদ্যোগের খবর তা কিছুটা কমিয়েছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভোর মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৌদি আরব তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারছে—এমন তথ্য বাজারে সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমিয়েছে।
এর আগে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকজন ক্রেতার তেলবাহী চালানও বাতিল করে রিয়াদ। পাইপলাইনে হামলার পরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর ইয়ানবু বন্দর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বুধবার প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সেখানে মাত্র চারটি জাহাজের চলাচল দেখা গেছে। আগের দিন ছিল সাতটি, যেখানে গত ১০ দিনের গড় ছিল ১৮টি।
তেলের দাম কমার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও ভূমিকা রেখেছে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমেছে। তবে বিশ্লেষকেরা এর চেয়ে বেশি, প্রায় ১৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির মজুত বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিশোধিত জ্বালানির মজুত স্থিতিশীল থাকা বা বাড়ার কারণে অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখনো বিশ্ববাজারের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সংঘাতের পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সিটি গ্রুপের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানির দাম আরও প্রভাবিত হতে পারে। তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ব্যাংকটি।
সূত্র : রয়টার্স
সময়ের আলো/ইউএমএইচ