দুঃখের কোনো সহোদর নেই
বাবুল আনোয়ার
দুঃখের কোনো সহোদর নেই
দুঃখ বেড়ে ওঠে বিষাদ নীলে
কেউ নিঃস্ব হতে হতে নীরবে
দুঃখের সমগামী হয়ে যায়
দুঃখের কোনো পাঠশালা নেই
নেই নিবন্ধিত জন্মসনদ
দুঃখ হেঁটে যায় জীবনের সমান্তরাল
আঁধারে পথ ধরে অবিরাম একা
গোলাপ তৃষ্ণায় পোড়ায় মন।
লোভহীন হৃদয়ের টান
জামসেদ ওয়াজেদ
কবির নিজস্ব কোনো ঘর নেই, নেই কোনো বাড়ি
ভূগোল জমিনজুড়ে যত আছে বন উপবন
নক্ষত্র তারকারাজি নৈঃশব্দের প্রকৃতি সমন
সমাপ্তির আয়োজনে একদিন সব যাব ছাড়ি।
বেদনার হাট থেকে দুঃখ কিনে রাখব যতনে
সুখের পোয়ারা হতে কর্জ নিব আনন্দ সনদ
কেউ কেউ ভেবে নেবে দূর হোক জাতির আপদ
আনন্দ সুখ্যাতি তৃষ্ণা তৃণমূল কে রাখিবে মনে।
আমাদের রাজারা তো ব্যস্ত থাকে পার্থিব উল্লাসে
তারা কি বুঝবে বলো শব্দ-বর্ণ কবিতা বয়ান
সভ্যতা যতনে রাখা লোভহীন হৃদয়ের টান
পৃথিবী হাসতে থাকে এ পুষ্পিত শিমুল-পলাশে।
কবিরা তো চাষ করে শব্দ শিল্প চিন্তা ডালপালা
যাদের বিশ্বাসে থাকে মহাকাল নক্ষত্র উজালা।
একটি সাধারণ কবিতা
শাহেদ কায়েস
পছন্দ আর ভালোবাসার মাঝে
অদৃশ্য এক নদী বয়ে চলে।
চোখে দেখা যায় না
কিন্তু স্পর্শে বোঝা যায়—
তার স্রোত কত ভিন্ন!
পছন্দ— একটিক্ষক্ষণিকের আলো
যেখানে ফুলের দিকে হাত বাড়াই
তার রঙে মুগ্ধ হয়ে নিজের করে নিতে চাই
ছিঁড়ে নিই— আর ভাবি, এটাই অধিকার।
ভালোবাসা— একটি দীর্ঘ ভোরের মতো
যেখানে ফুলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকি
তার মাটির দিকে তাকাই
তার শিকড়ের তৃষ্ণা বুঝি
আর নিঃশব্দে জল ঢেলে দিই—
কেউ দেখুক, বা না দেখুক।
ফুল ছিঁড়ে নিলে সে আর ফোটে না;
কিন্তু জল দিলে প্রতিদিন নতুন করে জন্মায়।
সত্য যে কঠিন
মৌ মধুবন্তী
সম্ভাবনার কুয়াশা ভেদ করে, অনিশ্চয়তার চরে,
অদৃশ্য কোয়ান্টাম দোলনে মন একা একা ঘুরে মরে।
তরঙ্গমুখর মায়াবী জালে জড়িয়ে থাকে যে আশা,
তারই গভীরে লুকিয়ে রয়েছে নির্মম এক ভাষা।
পর্যবেক্ষকের দীপ্ত চোখে পরিমাপ যেই নামে,
অনিশ্চয়তা ভেঙে চুরমার হয়ে যায় অভিমানে।
তরঙ্গ রূপের অবয়ব টুটে কণা হয়ে যায় সত্য,
অমোঘ আঘাতে ফুরিয়ে ফুরিয়ে যায় চঞ্চল নিত্য।
সে সত্য নয় কোনো কোমল কুসুম, নয় কোনো মায়াবী গান,
সে তো নিখিলের মূল কাঠামোয় কঠিন শিলার তান।
এন্ট্রপির নিয়মে ক্ষয় হয়ে যায় সমস্ত অলীক ভান,
খাঁটি সে সত্য— কঠিন পাথরে খোদাই করা নিজ প্রাণ।
অনুভবে তুমি
মিয়া ইব্রাহিম
তোমার কাজলা হরিণ চোখ
আমার ব্যাকুল করা মন
তোমার দিঘল কালো চুল
আমায় ভাবায় সারাক্ষণ।
তোমার সোনার নূপুর পায়ে
মুখে মুক্তা ঝরা হাসি
আমার চোখে ছায়ার বিকিরণ
ছড়ায় বিজলি রাশি রাশি।
তোমার কোকিলকণ্ঠী সুর
মন মাতানো গানে
আমার হিয়ার মাঝে বীণা
জাগে প্রাণে প্রাণে।
তোমায় পাই না খুঁজি যত
আমার শূন্য বুকের মাঝে
তোমার লাজুক লাজুক হাসি
শুধুই বুকে বাজে।
মায়াজাল
সাইয়্যিদ মঞ্জু
সে আমাকে দেখে আর আমি তাকে দেখি
তারপর মন ভরে কবিতাই লিখি
একবার দুবার ফিরে ফিরে বারবার
কেন এই দেখাদেখি!
ধড়ফড়িয়ে মরছি চিতল মাছের মতো
মায়া কারাগার জানে...।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে