একজন স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে আর ফেরেনি। কারও মরদেহ মিলেছে জঙ্গলে, কারও খালে, কারও আবার অন্যের ঘরের মেঝের নিচে। স্বর্ণের দুল, যৌন সহিংসতা কিংবা পারিবারিক কলহ— ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় প্রাণ গেছে একের পর এক শিশুর। মুকুলেই ঝরে যাচ্ছে কচি প্রাণগুলো।
সর্বশেষ কুমিল্লায় ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে শিশুদের নিরাপত্তা। গত দুই-তিন মাসের এসব ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ। আসকের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ২৫৬ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।
কুমিল্লায় ছবি তুলতে বের হওয়া অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় জঙ্গলের ভেতর থেকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।’
হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান। শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল ইশায়াত। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় তার পরিবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ইশায়াত শাহরিয়ার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে। সে কোটবাড়ী এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইশায়াত বাসায় না ফেরায় তার সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার গন্ধমতীতে তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে থাকা ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। ইশায়াতের মা নাহিদা বেগম ফেসবুকে সবার কাছে অনুরোধ করছিলেন ছেলেকে খুঁজে পেতে সহযোগিতা করার জন্য।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাথমিক ধারণা, ইশায়াতের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার কারণ এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার কাছে থাকা আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।
যেভাবে সন্ধান : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের মরদেহ প্রথম দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার (ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশে) জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রথমে ওই শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় জিলানী মরদেহ পড়ে থাকতে দেখার বর্ণনা দেন।
পেশায় শ্রমিক জিলানী বলেন, ‘আমরা কাজ করার জন্য আসছিলাম। কাজের জন্য বাঁশ লাগব। তাই বাঁশ কাটতে এদিক দিয়ে যাইতেছিলাম। যাওয়ার সময় ভাতিজা কইছে, কাকা, একটা বাচ্চা পড়ে আছে। পরে এখানে আইসা দেখি, মাথার দিকে রক্ত রক্ত। আমরা ভয় পাইয়া গেছি। কাজ (বাঁশ কাটা) ফালাইয়া দিয়া চইলা গেছি।’ তখন জিলানীর কাছে সময় দেখার মতো কোনো মুঠোফোন বা ঘড়ি ছিল না বলে জানান। তবে সূর্যের অবস্থান দেখে তার ধারণা, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে তিনি ওই শিশুকে দেখতে পেয়েছেন।
জঙ্গল থেকে বেরিয়ে সড়কের ওঠার পর মামুন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে জিলানীর দেখা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান নিখোঁজ। এরপর মামুন তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। জিলানী বলেন, ‘মামুন ভাই কইল, ম্যাডামের বাচ্চা হারাইছে। (তখন আমি বলি,) ওইখানে একটা বাচ্চা পড়ে রইছে। পরে মামুন ভাই আমারে নিয়ে আবার এখানে আসে। এরপর দেখি এইটাই সেই বাচ্চা।’
সুনামগঞ্জে হাসপাতাল থেকে তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের বাবার চিকিৎসা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে শিশুদের বিষ খাওয়ানোর পর বাবা নিজেও বিষপান করেন। তাকে অসুস্থ অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার সকালে উপজেলার বাদাঘাট বাজারে লাইফ কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস নামে একটি বেসরকারি হাসপাতাল (ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্স) থেকে ওই তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই তিন শিশু হলো তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রজনীলাইন গ্রামের সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০), তামিম মিয়া (৭) ও শামীম মিয়া (২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতের কোনো একসময় সরাফত আলী তার তিন সন্তানকে বিষ খাওয়ানোর পর নিজেও বিষপান করতে পারেন। শনিবার সকালে বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের লাইফ কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে জানিয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, সকালে খবর পেয়ে তারা চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে তিন শিশু ও তাদের বাবাকে দেখতে পান। চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করার পর সরাফত আলীকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিখোঁজের সাত দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার : পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কলি উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে।
১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পাবনা সদর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে গিয়েছিল শিশু কলি। বাজার শেষে বাড়ি ফিরে কেনাকাটার ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে ঘরের পাশেই বের হয় সে। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় কলি।
নিখোঁজের কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে কেবল তার স্যান্ডেল জোড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের দাবিতে স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এমনকি ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার খণ্ডিত মরদেহ মিলল ডোবায়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের (৫৫) বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছেন উত্তেজিত গ্রামবাসী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা মূল অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে চড়াও হয়ে হাতুড়ি, শাবল ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে দ্বিতল বাড়ির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।
শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর খাল থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার : বাগেরহাটের শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর রাফি আঁকন (৯) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাফি আঁকন ওই গ্রামের জসিম আকনের ছেলে। সে দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার পর বাড়ি থেকে বের হয় রাফি। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। তিন দিন পর সকাল ৭টার দিকে এক প্রতিবেশী ওই খালে গোসল করতে গিয়ে কচুরিপানার নিচে একটি হাত দেখতে পান। পরে চিৎকার করে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে রাফির বাবা-মাসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি রাফির বলে শনাক্ত করেন।
জামালপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর মেঝের গর্তে মিলল মরিয়মের মরদেহ : জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মরিয়ম আক্তার নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১২টার পর উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর এলাকার জামিনুরের বসতঘরের মাটির নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মরিয়ম ৪১ নম্বর সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়ি চর লোটাবর থেকে স্কুলের উদ্দেশে বের হয় মরিয়ম। সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে সে বিদ্যালয়ে পৌঁছালেও তখনও স্কুল খোলা হয়নি। স্থানীয় এক পথচারী তাকে বিদ্যালয়ের সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখেছেন বলে পরিবারকে জানান। পরে স্কুল খোলার আগেই মরিয়ম নিখোঁজ হয়।
এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের তিন দিন পর শনিবার রাতে চর লোটাবর এলাকার জামিনুরের বসতঘরের মাটির নিচে মরিয়মের মরদেহ থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করে।
জলপাই কুড়ানোর কথা বলে শিশুকে হত্যা : ময়মনসিংহের নান্দাইলে জলপাই কুড়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে সাত বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু এবং অভিযুক্ত তহসিন হৃদয় (১৪) একই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে জলপাই কুড়ানোর কথা বলে ওই শিশুকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় তহসিন। পরে ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বাড়ির পাশে জঙ্গলের ভেতরে ফেলে রাখে তহসিন। পরিবারের লোকজন শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে চাপের মুখে তহসিন ঘটনাটি জানায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
কানের দুলের জন্য শিশুকে হত্যা : সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফারজানা সুলতানা (৯) নামে এক শিশুশিক্ষার্থীর মরদেহ বিদ্যালয়ের পাশের এক বাড়ির আলমারি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ওই বাড়ির এক নারী গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন। ২০ জুলাই উপজেলার কাজলা কাশিবাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পর রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহত ফারজানা সুলতানা উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পিটুনিতে নিহত নারীর নাম সুমাইয়া (২৬)। তিনি কাজলা কাশিবাটি এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা মো. আমিরুলের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশে বের হয় ফারজানা। তবে স্কুল ছুটি হওয়ার পরও সে বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
কোথাও খোঁজ না পেয়ে বিষয়টি কালিগঞ্জ থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটির সন্ধানে অভিযান শুরু করেন। রাতে ৮টার দিকে সুমাইয়ার বসতঘরের ভেতরের আলমারির ড্রয়ার থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা সুমাইয়াকে ধরে পিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, শিশু ফারজানার কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে