তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে গ্রিডে গ্যাস, আসছে আরও তিন কূপ

ব্রহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা

সারাদেশ

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের নতুন কূপগুলো থেকে উৎপাদন শুরু হচ্ছে। শনিবার (১৯

2026-09-20T11:27:21+00:00
2026-09-20T11:29:37+00:00
 
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে গ্রিডে গ্যাস, আসছে আরও তিন কূপ
ব্রহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৭ এএম  আপডেট: ২০.০৯.২০২৬ ১১:২৯ এএম
তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের নতুন কূপগুলো থেকে উৎপাদন শুরু হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের নতুন কূপগুলো থেকে উৎপাদন শুরু হচ্ছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শিগগিরই ২৯ নম্বর কূপ থেকেও পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপের গ্যাসও গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

শনিবার দুপুরে তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্র সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) পরিচালনাধীন এ গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উত্তোলনের কারণে মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় বিদ্যমান কূপগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে।

এ পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ‘সি’ লোকেশনে নতুন গ্যাসের উৎস খুঁজতে ২০১২ সালে জরিপ চালায় বিজিএফসিএল। ২০২০ সালে ওই জরিপের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতায় কূপটির খননকাজ শেষ হয় গত ২৭ মে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি কূপটির খননকাজ করে। এরপর গত ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

এদিকে ‘সি’ লোকেশনে তিতাস ২৯ নম্বর কূপের খননকাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে কূপটিতে অন্যান্য কারিগরি কাজ চলছে। ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় কূপটির খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। আগামী এক মাসের মধ্যে কূপটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া আগামী দেড় মাসের মধ্যে একই লোকেশনে তিতাস ৩০ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু করার কথা রয়েছে। ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতার এ কূপ খননে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লাগতে পারে।


অন্যদিকে, সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় তিতাস ৩১ নম্বর কূপের খননকাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতার এ কূপটি দেশের প্রথম এবং সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ। ইতোমধ্যে এর ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে।

তিতাস ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না বলেন, ২৮ নম্বর কূপ থেকে আপাতত দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। ২৯ নম্বর কূপ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। কূপটি ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় খনন করা হয়েছে। এতে ভালো চাপের গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৩০ নম্বর কূপের খননকাজও আগামী দেড় মাসের মধ্যে শুরু হবে।

তিতাস ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদুল নবাব বলেন, কূপটি দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ হওয়ার পাশাপাশি উচ্চচাপ ও উচ্চতাপসম্পন্ন। বড় ধরনের জটিলতা না হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এ কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিতাস ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপের প্রতিটি থেকে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট করে মোট ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। এ পরিমাণ গ্যাস দেশের মোট চাহিদার তুলনায় বেশি না হলেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে সমপরিমাণ এলএনজি আমদানি কমানো সম্ভব হবে।

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ ২০৩০ সাল নাগাদ গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে সহায়তা করবে। ২৮ নম্বর কূপের গ্যাস মানুষের মধ্যে স্বস্তি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   তিতাস  কূপ  গ্রিডে গ্যাস  বিজিএফসিএল 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: