খুলনায় ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগ তুলে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে নিহতের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতেই আজমুলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
নিহত আজমুল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে থাকতেন তিনি।
শুক্রবার রাতে ওই মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। আশপাশের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মেসের পাশের একটি বাড়ির এক নারী জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, ওই রাতে আজমুল এক শিক্ষার্থীর খাবার খেয়ে ফেলেছিলেন। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগ তুলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন। রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি চিৎকার শুনতে পান। পরে ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দও শুনেছেন।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাত একটার দিকে কয়েকজন তাকে ফোন করে আজমুলের বিরুদ্ধে জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ করেন এবং এক লাখ টাকা দাবি করেন। খবর পেয়ে তিনি খুলনায় এসে প্রথমে মেসে যান। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান।
ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, আজমুলের বিরুদ্ধে আগে বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগ ছিল কি না, মেসে কারও সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে। ভবনটিতে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকতেন। কারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তা বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সময়ের আলো/কেএইচ