কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকপুত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আটক মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে আগেও মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৫ সালে করা ওই অভিযোগে তুহিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত হয় বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী আসাদুল্লাহ সোহাগ দাবি করেছেন, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে তুহিন মোটরসাইকেল চালানোর কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর সেটি আর ফেরত দেননি। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের প্রভাব থাকায় পুলিশ নিয়মিত মামলা নেয়নি এবং বিষয়টি জিডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে।
শনিবার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে তুহিন আটকের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পুরোনো অভিযোগের কপি প্রকাশ করেন সোহাগ। সেখানে তিনি দাবি করেন, ছোট অপরাধের বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা পরবর্তী সময়ে আরও বড় অপরাধে জড়ানোর সাহস পায়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে সদর দক্ষিণ থানার সালমানপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এর আগে ২৭ মার্চ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন সোহাগ। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের কারণে তুহিন ওই মোটরসাইকেলটি কিছু সময় চালানোর কথা বলে নিয়ে যান। পরে গাড়িটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, পুরোনো জিডির বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তের পাশাপাশি অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজে তুহিনকে তার সঙ্গে দেখা যায়। পরে তাকে আটক করে পুলিশ। তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের মায়ের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ