রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও রেললাইনে অগ্নিসংযোগ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের কারণে ঢাকাগামী আন্তনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেসের নির্ধারিত যাত্রাও ব্যাহত হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরে একদল শিক্ষার্থী স্টেশন কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর করেন। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন স্টেশনের রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তারা।
জানা গেছে, রোববার রাতে আইয়ুব আলী নামের এক রাবি শিক্ষার্থী তার চাচাকে নিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যান। এ সময় ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মারধরের শিকার আইয়ুব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান বলেন, রেলস্টেশনে কয়েকজন রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের কর্মচারীদের বাগ্বিতণ্ডা চলছিল। পরে আইয়ুব তাদের পক্ষে কথা বললে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আটকের দাবি জানান। একই সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুজন করে ট্রেন স্টাফ তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘জড়িতদের অনতিবিলম্বে আটক করতে হবে। ট্রেন থামিয়ে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুজন করে ট্রেন স্টাফ তুলব আমি। আমার ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এত প্রতিহিংসা কিসের, এটা দেখতে চাই।’
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে রাত ১১টা ২০ মিনিটে রাজশাহী স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ধূমকেতু এক্সপ্রেসের ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি ছাড়তে পারেনি। এতে ট্রেনে থাকা হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন এবং আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রাতেই রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন আরিফ হোসেন, রোকন উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন। দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কমান্ড্যান্ট (সদর)-এর কাছে নিয়মিত দৈনিক হাজিরা দিতে হবে।
ঘটনার বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ভায়োলেন্সের ঘটনা কাম্য নয়।’ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সময়ের আলো/এসএকে