জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর খবরে সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় করেছেন গ্রাহকরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করার পরপরই মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে পাম্পগুলোতে ছুটতে শুরু করেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত ১২টার আগে তেল বিক্রি করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন পাম্প মালিকরা। নতুন নির্ধারিত দামে তেল বিক্রির জন্য মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন তারা।
শহরের কাজীপুর মোড় এলাকার মেসার্স পার্ক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য শতাধিক মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। তবে পাম্পের কর্মীরা কৌশলগত কারণে গ্রাহকদের চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে তেল দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে বুঝতে পেরে অনেক গ্রাহককে তেল না নিয়েই ফিরে যেতে দেখা যায়।
রোববার রাতে সরকার দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। অর্থাৎ, রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে বাড়তি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে।
জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে সরকার দেশে দাম বাড়ায়নি।
এর ফলে গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
সময়ের আলো/এসএকে