সুরক্ষায় পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ চাই

সম্পাদকীয়

মতামত

শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগে ভোগেন না এমন অভিভাবক কমই আছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা তাদের সেই উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে। স্কুলে

2026-09-21T06:55:49+00:00
2026-09-21T06:55:49+00:00
 
  সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৬ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
শিশু নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
সুরক্ষায় পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ চাই
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগে ভোগেন না এমন অভিভাবক কমই আছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা তাদের সেই উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে। স্কুলে যাওয়ার পথে, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গিয়ে, এমনকি পরিচিত পরিবেশেও সম্প্রতি বেশ কয়েকটি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। কারও মরদেহ মিলছে জঙ্গলে, কারও খালে, কারও আবার মাটির নিচে। এসব ঘটনাকে শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের খবর হিসেবে দেখা চলে না। হত্যাকাণ্ডের এসব ঘটনা দেশে শিশুদের জন্য বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

কুমিল্লার ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এর সর্বশেষ উদাহরণ। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি সে। কয়েক দিন আগে পাবনায় নিখোঁজ হয়েছিল ১০ বছরের কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

বাগেরহাটে নিখোঁজের তিন দিন পর খাল থেকে উদ্ধার করা হয় ৯ বছর বয়সি রাফির মরদেহ। জামালপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া মরিয়মের মরদেহ পাওয়া যায় একটি বসতঘরের মাটির নিচে। পারিবারিক বিরোধ ও সামান্য সম্পদের জন্য শিশুহত্যার অভিযোগও পাওয়া যায়। ধর্ষণ, নিপীড়নের শিকারও হচ্ছে অনেক শিশু।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশকেন্দ্রের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১৫৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও অপরাধের ঘটনায় নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ হওয়ার পর। সংখ্যাগুলোই সমস্যার গভীরতা বোঝার জন্য যথেষ্ট। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জিডি হয়েছে। 

পুলিশ বলছে, নিখোঁজ হওয়া শিশুদের ৮৭ শতাংশের বেশি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, ২ হাজার ৩৮টি শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের আগে এ কথা বলে দেওয়া যায় না যে, নিখোঁজ হওয়া শিশুরা কোনো না কোনো অপরাধের শিকার হয়েছে। তবে এই বিপুলসংখ্যক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অবহেলা করার সুযোগও নেই।

শিশু নিখোঁজ হওয়ার পেছনে পারিবারিক কলহ, পড়াশোনার চাপ, অভিমান, বন্ধুদের প্রভাবসহ নানা কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আবার কিছু ক্ষেত্রে এসব শিশুর অনেকে অপরাধের শিকার হয়েছে। শিশুর প্রতি সহিংসতার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড়দের বিরোধের বলি হচ্ছে শিশুরা। অর্থাৎ শিশুর প্রতি সহিংসতার সমস্যাটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের ভূমিকাও এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশু নিখোঁজের ঘটনায় থানায় অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়িমসি থাকা উচিত নয়। শিশু নিখোঁজের পর দ্রুত অনুসন্ধান, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল, মাদরাসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষার ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। 

একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও শিশুদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভয় বা চাপের কারণে তারা বিপদে পড়ে নীরব না থাকে। ইউনিসেফও শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা, স্থানীয় সুরক্ষা সেবা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।

শিশুহত্যার কোনো ঘটনা যেন সময়ের সঙ্গে চাপা পড়ে না যায় সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। শিশুহত্যার প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে। আইন অনুযায়ী এর বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুর জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। শিশুরা যেন মুকুলেই ঝরে না যায়।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   সুরক্ষা  পরিবার  সমাজ  রাষ্ট্র  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: