আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পুরো সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইসিসির বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিলে আদালতটির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে আদালতের অর্থনৈতিক ও দৈনন্দিন কার্যক্রম বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইসিসির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বিমা কেনা, তদন্তকারী নিয়োগ এবং নিয়মিত আর্থিক লেনদেনের মতো কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন কর্মীর বেতন পরিশোধও সমস্যায় পড়তে পারে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির নেতাদের বিরুদ্ধে আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারে আদালতটির ওপর চাপ দিতে চায় ওয়াশিংটন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর পৃথক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
রয়টার্স জানায়, আইসিসির পুরো সংস্থাকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগটি হবে আদালতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তৃত পদক্ষেপগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ অনুমতি ছাড়া আইসিসির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতে না পারার বিধানও এতে থাকতে পারে।
এদিকে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ছয় থেকে সাত মাসের একটি সময়সীমা শেষে আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ লেনদেন নিষিদ্ধ করা হতে পারে। সংবাদমাধ্যমটি দুইটি নথি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন চলতি সপ্তাহেই এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।
আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্র নিজে আদালতটির সদস্য নয়।
তবে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
সময়ের আলো/জেডি