যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। নতুন করে হামলা হলে ‘কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই’ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিউইয়র্কে বৈঠকের সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন।
ইরানের সামরিক বাহিনীর এই সতর্কবার্তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছে। প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে তেহরানও বিভিন্ন শর্ত জানিয়ে আসছে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মার্কিন হামলার আশঙ্কার পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতেও সম্ভাব্য পাল্টা আঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী।
এদিকে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে সংঘাতও নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। রিয়াদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, সৌদি আরব ও হুতিদের লড়াই দ্রুত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরব সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাড়িয়েছে অপরিশোধিত তেল রফতানি। এতে সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কিছুটা কমেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় সোমবার ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট— দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে যায়, যা আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ০৮ শতাংশ কম। আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ২ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়ায়।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এখনো কমেনি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম এবং সৌদি আরবকে ঘিরে হুতিদের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
সময়ের আলো/জেডি