গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের জনসেবা ক্লিনিক গত বছরের নভেম্বরে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর পর সিলগালা করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সেটি আবার গোপনে চালু হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে অভিযানে গিয়ে ক্লিনিকটিতে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত সরকারি ইনজেকশন পাওয়া গেছে।
রোববার রাত ১১টার দিকে ক্লিনিকটিতে এসব ইনজেকশন পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন সেফট্রিয়াক্সন ও গ্যাস্ট্রিকের ইনজেকশন ইসোমিপ্রাজল।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার প্রামাণিক জানান, সিলগালা করা ক্লিনিকটি অনুমতি ছাড়া গোপনে আবার চালু হয়েছে, এমন খবর তিনি পান। খবর পেয়ে তিনি ক্লিনিকে যান। সেখানে ক্লিনিকের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় ব্যবহৃত সরকারি ইনজেকশনগুলো তার চোখে পড়ে।
তিনি আরও জানান, তিনি পৌঁছানোর পর ক্লিনিকে থাকা নার্স, মিডওয়াইফসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে সটকে পড়েন।
পরে ক্লিনিকের মালিককে না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সালাউদ্দিন আহমেদ ক্লিনিকটি আবার সিলগালা করেন। তবে ব্যবহৃত সরকারি ওষুধগুলো তখন জব্দ করা হয়নি।
ক্লিনিকের স্টোরে অব্যবহৃত আরও সরকারি ওষুধ আছে কি না, তা-ও দেখা যায়নি। স্টোরটি তালাবদ্ধ থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেখানে ঢুকতে পারেননি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে ডা. সালাউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের নভেম্বরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় জনসেবা ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জনসেবা ক্লিনিকের পাশাপাশি তাওহীদ রহমানের মালিকানাধীন নিউ লাইফ ক্লিনিক এবং নিউ লাইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টারেও দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই অপারেশনসহ নানা চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একবার সিলগালা করার পরও কোনো অনুমতি ছাড়া ক্লিনিকটি আবার চালু করা হয়েছিল। এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, সিলগালা করার পর অনুমতি ছাড়া ক্লিনিক খোলা এবং সরকারি ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা