ভারতে আইআইটির মৃত শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বললেন, ‘জাতিগত বৈষম্য ছিল না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের আইআইটি বোম্বের শিক্ষার্থী সাহিল রবীন্দ্র ওয়াকুড়ের মৃত্যু ঘিরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যেই সাহিলের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, তার

2026-09-21T19:24:45+00:00
2026-09-21T19:52:16+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৭ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভারতে আইআইটির মৃত শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বললেন, ‘জাতিগত বৈষম্য ছিল না’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৪ পিএম  আপডেট: ২১.০৯.২০২৬ ৭:৫২ পিএম
সাহিল রবীন্দ্র ওয়াকুড়ে ও আইআইটি বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত ছবি
ভারতের আইআইটি বোম্বের শিক্ষার্থী সাহিল রবীন্দ্র ওয়াকুড়ের মৃত্যু ঘিরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যেই সাহিলের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, তার জানা অনুযায়ী সাহিলের সঙ্গে জাতিগত বৈষম্য করা হয়নি।  

সাহিল দ্বিতীয় বর্ষের বি-টেকের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত শুক্রবার আইআইটি বোম্বের হোস্টেল কক্ষে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে একটি মিড-সেমিস্টার পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের অভিযোগে তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। 

সাহিলের বন্ধু ইয়াতিশ কুমার সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, পরীক্ষার চার-পাঁচ দিন আগেও তিনি সাহিলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখন সাহিলকে স্বাভাবিক, হাসিখুশি ও প্রাণবন্তই মনে হয়েছিল।  

ইয়াতিশ বলেন, পরীক্ষার দিন সাহিলকে নকল করার সময় ধরা হয়েছিল। এরপর একজন অধ্যাপক তাকে পরীক্ষার কক্ষের বাইরে নিয়ে যান। তবে এরপর ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। সাহিল অন্য বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় ঘটনার পুরো বিষয়টি তিনি জানতেন না।  

সাহিলের পরিবারের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি ও জাতিগত বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের দাবি। তার বাবা-মা তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির ওপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় একটি মামলাও করেছেন। 

তবে ইয়াতিশ বলেন, তার অভিজ্ঞতায় আইআইটি বোম্বেতে জাতিগত বৈষম্য কোনো সমস্যা হিসেবে মনে হয়নি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি না জাতিগত বৈষম্য কোনো বিষয় ছিল। অন্তত আমি কখনো এমন কিছু অনুভব করিনি। 

তার মতে, শিক্ষার্থীদের ওপর থাকা প্রচণ্ড মানসিক চাপের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, পরীক্ষায় নকল করা অবশ্যই ভুল। কিন্তু শাস্তি দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থাও বিবেচনা করা উচিত এবং তার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন।

সাহিলকে স্মরণ করে তার বন্ধু বলেন, প্রথম বর্ষে হোস্টেলে তার পাশের কক্ষেই সাহিল থাকতেন। সেখান থেকেই তাদের বন্ধুত্ব শুরু। তারা একসঙ্গে ব্যাডমিন্টনও খেলতেন।


তিনি বলেন, আমরা সবাই সাহিলকে মিস করছি। পুরো কলেজই তাকে মিস করছে। এমন একজন বন্ধুকে হারানো স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। 

এদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে আইআইটি বোম্বে আগের এক বিবৃতিতে সাহিলের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া কিছু বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছে। একই সঙ্গে আইআইটি বোম্বের পরিচালক শিরীষ কেদার পদত্যাগ করবেন— এমন খবরও প্রতিষ্ঠানটি অস্বীকার করেছে।

আইআইটি বোম্বে ফ্যাকাল্টি ফোরাম পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার প্রতি সংহতি জানিয়েছে। তাকে ছাত্রকল্যাণ বিভাগের ডিনের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

ফোরামের বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর কাছে অনুমোদনহীনভাবে স্মার্টফোন পাওয়া যাওয়ার পর তিনি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।  

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় মোট ১৮টি দাবি উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন একাডেমিক কমিটিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব, ক্যাম্পাসে আত্মহত্যার চারটি ঘটনা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত এবং শিক্ষকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালার ব্যবস্থা। 

সূত্র : এনডিটিভি 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ 
  বিষয়:   ভারত  আইআইটি 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: