২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে বহুল আলোচিত কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানো হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় তার সঙ্গে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও সহিদুল ইসলাম সর্দারসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশনের শুনানির দিন ধার্য থাকলেও ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ বেঞ্চ উপস্থিত না থাকায় তা পিছিয়ে আগামী রোববার দিন ঠিক করা হয়। ওই দিন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নির্ধারিত দিনে এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ঘটনার সময় র্যাব-৭ (চট্টগ্রাম)-এর অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে) আনোয়ার লতিফ খান।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনাসহ মামলার বাকি পলাতক আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
এর আগে, ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। তবে ৭ সেপ্টেম্বর মামলার নির্ধারিত হাজিরার দিনে গ্রেফতার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হলেও বাকি পলাতকরা আত্মসমর্পণ করেননি। এর আগে গত ২৬ জুলাই এই মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলী এলাকার হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে কাউন্সিলর একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, সহায়তা এবং সরাসরি হত্যার নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
সময়ের আলো/আতা