প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীতসাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তিন দফায় মোট ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শুনানিতে দীপের আইনজীবী বলেন, রিমান্ড শুনানির সময় তারা কোনো জামিন আবেদন করেননি। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ সব ধরনের তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রতিবার রিমান্ডে নেওয়ার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার কথা বলা হলেও কাউকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অধিকার নেই। আসামির মানসিক অবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এসব দিক বিবেচনা করে দীপের জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। তবে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
এর আগে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দীপকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই জানিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে ঘোরাফেরা, বিভিন্ন স্থানে যাওয়া এবং রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান দীপ। পরে তারা একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে যান। এরপর জেরিকা তাসনিম দিশাকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর সিপি ফাইভ স্টারে নাশতা করেন। রাতে তারা উত্তরা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে তিনজনই বিয়ার পান ও ধূমপান করেন। একপর্যায়ে জেরিকা বাসায় চলে যান।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তিতে পৌঁছান। পরে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে যাওয়ার পর কয়েকজনকে দেখে তারা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন দীপ।
সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর আগে তাহসিফকে সর্বশেষ দীপ ও জেরিকার সঙ্গে দেখা গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। রিমান্ডে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সময়ের আলো/জেডি