রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের পূর্ব গেট প্রাঙ্গণে দেশি-বিদেশি মোট ১৪২টি প্রকাশনীর স্টল নিয়ে চলছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা-২০২৬। পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর আয়োজিত এই বইমেলায় এবার রয়েছে বিশেষ সিরাত এক্সিবিশন, শিশু কর্নার, ফিমেল কর্নার, মিডিয়া কর্নার, ম্যাগাজিন ও লেখক কর্নারসহ আধুনিক সব ফিচার। ১০ সেপ্টেম্বর মেলার কার্যক্রম শুরু হয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ১২ সেপ্টেম্বর। বইমেলা চলবে প্রতি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। মাসব্যাপী চলার পর মেলার সমাপ্তি হবে ১১ অক্টোবর।
মেলায় অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে সিরাত এক্সিবিশন। ব্যতিক্রমী এ প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান ও পরিবেশের রেপ্লিকা, যা দর্শনার্থীদের সিরাতের প্রতি গভীর উপলব্ধি অর্জনে সাহায্য করছে। প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, খেজুর পাতা দিয়ে ছাওয়া কুঁড়েঘরের মতো স্থাপনা, সে যুগের আসবাবপত্র, মাটির তৈরি পাত্র, বালু-মাটির দেয়াল ও মেঝে, প্রাচীন কূপের প্রতিকৃতি এবং সবুজ গাছপালায় সজ্জিত বসার স্থান। এই সজ্জা মরুভূমির তৎকালীন পরিবেশ এবং নবীজির সাদামাটা জীবনকে ফুটিয়ে তুলেছে।
সিরাত কেবল ইতিহাস নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য জীবন বিধান। বই পড়ে সিরাত জানা এক বিষয়, আর এমন বাস্তব পরিবেশে তার রেপ্লিকা দেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। দর্শকরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন দেড় হাজার বছর আগের মক্কা-মদিনা ও আরবের সমাজ জীবনের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ইসলামি বইমেলায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে রাজধানীর ডেমরার ‘ওয়াফা ইন্টারন্যাশনাল হিফজ স্কুল’।
প্রদর্শনীর দায়িত্বে থাকা একজন বলেন, এ প্রদর্শনী আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের নানা দিককে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে তখনকার সময়ে তাঁর জীবনযাপন, যে সরলতা ও পবিত্রতা নিয়ে তিনি পথ চলেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। ছবিগুলোতে দেখা কুঁড়েঘর, পানির কূপ— এগুলো সিরাতের একেকটি জীবন্ত অধ্যায়। নবীজির প্রতি ভালোবাসা জাগাতে এমন আয়োজন খুব প্রয়োজন। প্রদর্শনীতে ভিড় জমাচ্ছেন সব বয়সির দর্শনার্থী। সিরাতের এমন জীবন্ত উপস্থাপনা দেখে অনেকেই মুগ্ধ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি